পার্লারের ঝক্কি ছাড়াই ঘরে বসেই ওয়্যাক্সিং: রইল সহজ পদ্ধতি ও জরুরি টিপস

ওয়্যাক্সিংয়ের জন্য পার্লারে যাওয়া অনেকের কাছেই একটি ঝামেলার কাজ মনে হতে পারে। বাজারে এপিলেটর বা ভালো মানের শেভারের সহজলভ্যতা থাকলেও, যারা নিয়মিত ওয়্যাক্সিং করেন, তারা এর দীর্ঘস্থায়ী মসৃণতার মহিমা ভালোভাবেই জানেন। যাদের হেয়ার গ্রোথ খুব বেশি, তাদের কথা আলাদা, কিন্তু সাধারণত ওয়্যাক্সিংয়ের পর মাসখানেক মখমলের মতো কোমল ত্বক স্পর্শ করলে নিজেরই ভালো লাগে। তবে হ্যাঁ, রোম খুব ছোট হলে ওয়্যাক্সিংয়ের সময় একটু বেশি ব্যথা লাগতে পারে, কারণ সেগুলিকে ধরতে সমস্যা হয়। এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো কারণে পার্লারে যাওয়া সম্ভব না হয় এবং হেয়ার গ্রোথ বেড়ে যাওয়ায় স্লিভলেস বা শর্ট ড্রেস পরা বন্ধ হতে চলেছে, তবে চিন্তা নেই! রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান ব্যবহার করেই আপনি বাড়িতে তৈরি করে নিতে পারবেন আপনার নিজের ওয়্যাক্স।
ওয়্যাক্স তৈরির আগে যা জরুরি
ওয়্যাক্স করার আগে ত্বক এক্সফোলিয়েট করবেন না, কারণ এতে ত্বক কেটে-ছড়ে যেতে পারে এবং সেক্ষেত্রে ওয়্যাক্স করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। ত্বকে ময়শ্চারাইজার ব্যবহারেরও কোনো দরকার নেই, কারণ ময়শ্চারাইজার ত্বক আর ওয়্যাক্সের মাঝে একটি দেওয়াল তৈরি করে। ওয়্যাক্সিংয়ের আগে হাত-পা খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। সম্ভব হলে ওয়্যাক্সিংয়ের জায়গাগুলিতে বরফ ঘষে নিন; এতে ওয়্যাক্সিংয়ের কারণে হওয়া বাড়তি যন্ত্রণা অনেকটাই কমবে।
ঘরে ওয়্যাক্স তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ
বাড়িতে ওয়্যাক্স তৈরির জন্য আপনার যা যা প্রয়োজন:
১ কাপ ব্রাউন সুগার
২ টেবিলচামচ পাতিলেবুর রস
২ টেবিলচামচ জল
রান্নার একটি গভীর পাত্র
ওয়্যাক্স করার উপযোগী টিস্যু পেপার (ডিসপোজেবল স্ট্রিপ ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ)
ওয়্যাক্স তৈরির পদ্ধতি
পাত্রটি আঁচে বসিয়ে প্রথমে ব্রাউন সুগার দিন।
এরপর এতে লেবুর রস ও জল যোগ করুন।
খুব কম আঁচে মিশ্রণটি বসিয়ে রাখুন। মিশ্রণটা ফুটতে শুরু করলে নেড়ে দিন এবং আঁচ বাড়ান।
আঁচ কমিয়ে দিন। মিশ্রণটিতে ধীরে ধীরে সোনালি রং ধরবে।
এক চা চামচ মিশ্রণ তুলে অল্প ঠান্ডা করুন। মধুর চেয়ে একটু ঘন হলেই কাজ হয়ে যাবে।
মিশ্রণটি একটি পাত্রে ঢেলে নিন। আধ ঘণ্টা পর এটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হবে। দরকার হলে ব্যবহারের আগে এটি আর একটু গরম করে নিতে পারেন।
ব্যবহারের নিয়মকানুন
যেহেতু ওয়্যাক্স গরম থাকে, তাই অত্যন্ত নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন কোনো জায়গায় রেখে তবেই কাজ শুরু করা উচিত। অসাবধানে হাতে-পায়ে পড়ে গেলে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। ওয়্যাক্স লাগানোর জন্য একটি অ্যাপ্লিকেটর ব্যবহার করুন। স্টিলের চামচ বা বাটার নাইফ দিয়ে এই কাজ সারার চেষ্টা করবেন না, কারণ স্টিলের জিনিস খুব গরম হয়ে যায় এবং অসাবধান হলে ছ্যাঁকা লাগতে পারে।
আপনার রোমের বাড় যেদিকে, সেদিক বরাবর ওয়্যাক্স লাগাতে হবে। এরপর ওয়্যাক্স টিস্যু নিয়ে তার উপর ভালোভাবে চেপে বসিয়ে দিন। হেয়ার গ্রোথের উলটোদিকে এক টানে টিস্যুটি তুলতে হবে। এক ধাক্কায় না তুলতে পারলে ত্বক মসৃণ থাকবে না এবং রোম ছিঁড়ে যেতে পারে।
ওয়্যাক্স করার পর প্রথমে একটি নরম কাপড় হালকা গরম জলে ভিজিয়ে ওয়্যাক্স করা জায়গাটি পরিষ্কার করে মুছে নিন। এরপর ঠান্ডা জলে ডোবানো কাপড় নিংড়ে আলতো হাতে মুছে নিন। স্বাভাবিকভাবে শরীরটা শুকনো হতে দিন। যদি কোনো জায়গা লালচে হয়ে যায়, সেখানে বরফ ঘষুন।
ওয়্যাক্স করার পর যে নিয়মগুলি মানবেন
ওয়্যাক্স করেই রোদে বেরোবেন না: এতে সান ট্যান হতে পারে এবং রোদে ত্বকের রং জ্বলে যাওয়া বিচিত্র নয়।
ঢিলেঢালা পোশাক পরুন: ওয়্যাক্স করার সময় আপনার ত্বকের উপর কিছুটা অত্যাচার হয়। তাই এই সময় টাইট পোশাক পরা থেকে বিরত থাকুন।
এক্সফোলিয়েট করবেন না: ওয়্যাক্সিংয়ের ফলে আপনার ত্বক সব মৃত কোষ থেকে মুক্তি পেয়েছে, তাই তখনই আর এক্সফোলিয়েট করার দরকার নেই। এতে ত্বকে আঘাত লাগতে পারে।
ভারী ক্রিম লাগাবেন না: ভারী ক্রিম আপনার ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। তাই ওয়্যাক্সিংয়ের পরপরই তা ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই।