অ্যালো ভেরা শুধু ত্বক-চুলের জন্য নয়, পেটের সমস্যা ও ব্রণ কমাতেও ম্যাজিকের মতো কাজ করে!

অ্যালো ভেরা জেল ত্বক ও চুলের যত্নে কতটা উপকারী, তা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, শরীরের সর্বাঙ্গীন সুস্থতার জন্যও অ্যালো ভেরা জুস অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সারা বছর পেটের নানা গোলমালে ভোগেন, বা যাদের মুখে ঘন ঘন ব্রণ বের হয়, তাঁদের জন্য সকালে খালি পেটে অ্যালো ভেরা জুস পান করা একটি দারুণ সমাধান হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোতলে বন্দি প্রিজারভেটিভযুক্ত জুসের চেয়ে বাড়িতে তৈরি তাজা অ্যালো ভেরা জুস অনেক বেশি উপকারী। এই লকডাউনের সময়েও বাড়িতে একটি অ্যালো ভেরা গাছ তৈরি করা সম্ভব। আশপাশের কারও বারান্দায় বা ছাদে অ্যালো ভেরা গাছ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন নয়, কারণ বহু মানুষ এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন। কেবল একটি ডাল চেয়ে এনে বাড়তি টবে বা পুরনো গামলা/বালতির মধ্যে মাটি ভরে পুঁতে দিলেই হবে। নিয়মিত জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং খুব বেশি রোদেরও দরকার হয় না, কিছুদিনের মধ্যেই আপনার নিজের অ্যালো ভেরা গাছ তৈরি হয়ে যাবে।

কেন অ্যালো ভেরা শরীর সুস্থ রাখতে উপযোগী?

আমাদের শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে জীবাণু সহজে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। তাই এমন কিছু খেয়ে দিন শুরু করা উচিত যা ক্ষারীয় (Alkaline)। তাজা অ্যালো ভেরা জুস এক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে।

কীভাবে তৈরি করবেন তাজা জুস?

একটি অ্যালো ভেরা পাতা চিরে ভিতর থেকে শাঁস (জেল) বের করে নিন। তারপর সেটা জল দিয়ে মিক্সিতে ব্লেন্ড করে নিলেই তাজা জুস প্রস্তুত হয়ে যাবে।

অ্যালো ভেরা জুসের উপকারিতা:

পাচনতন্ত্রের উন্নতি: অ্যালো ভেরা জুস লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। এর ফলে শরীর ভেতর থেকে ক্রমশ আরও সুস্থ হয়ে ওঠে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা: হজমশক্তি ভালো হলে এবং শরীর ভেতর থেকে সুস্থ থাকলে তার প্রভাব ত্বকেও দেখা যায়। ত্বক ঝলমল করে ওঠে এবং ব্রণের সমস্যা কমে।
শরীরকে আর্দ্র রাখা: এই জুস শরীরকে আর্দ্র রাখতেও সমান কার্যকর।
অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: অ্যালো ভেরা ক্ষারীয় হওয়ায় এটি শরীরের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা জীবাণুর বংশবৃদ্ধি রোধ করে।