বর্ষায় পায়ের যত্ন: কাদা, ময়লা ও সংক্রমণ থেকে মুক্তির সহজ উপায়!

বর্ষার রিমঝিম বৃষ্টি দেখতে কার না ভালো লাগে! কিন্তু যেই বাইরে বেরোনোর কথা আসে, অমনি মনটা খারাপ হয়ে যায়। এই গরমে সারা ক্ষণ গামবুট পরে থাকা সম্ভব নয়, আবার রাস্তায় পা দিলেই চ্যাপচেপে কাদা আর নখের কোণে জমে থাকা ময়লার কথা ভাবলেই বিরক্তি আসে। এর উপর বর্ষার অতিরিক্ত আর্দ্রতা আর জলকাদায় পায়ে নানা ধরনের র্যাশ ও সংক্রমণের আশঙ্কা তো আছেই। এই সব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে ভরসা রাখতে হবে ঘরোয়া সমাধানের উপর।
পায়ের পরিচ্ছন্নতা ও শুষ্কতা বজায় রাখুন
বর্ষা, শীত বা গ্রীষ্ম যাই হোক না কেন, পা যেন সব সময় শুকনো থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যদি রাস্তায় পা ভিজে যায় বা অতিরিক্ত জল-কাদায় ময়লা হয়ে যায়, তবে অফিসে ঢুকে পা ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর টিস্যু দিয়ে শুকনো করে মুছে নিতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই ভেজা মোজা বা জুতো পরে থাকবেন না। প্রয়োজনে এই সময়ে পিভিসি মেটেরিয়ালের জুতো পরুন অথবা অফিসে অতিরিক্ত একজোড়া স্লিপার রাখার ব্যবস্থা করুন। বাড়িতে ফিরে আরও একবার পা পরিষ্কার করুন।
ফুট বাথ ও স্ক্রাব জরুরি
সপ্তাহে অন্তত একবার ফুট বাথ নিন। উষ্ণ গরম জলে পা ডুবিয়ে রাখুন, সেই জলে সামান্য লেবুর রস আর শ্যাম্পু মিশিয়ে নিন। এতে পায়ের দুর্গন্ধ দূর হবে। এরপর পামিস স্টোন দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। মধু, বেসন, সর ও ময়দা দিয়ে তৈরি ফুট স্ক্রাবও ব্যবহার করতে পারেন। মাসাজ করে মৃত কোষ তুলে দিন, তারপর পা ধুয়ে-মুছে ভালো কোনও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেবেন। বর্ষাকালেও কিন্তু ময়েশ্চারাইজার একান্ত প্রয়োজনীয়।
নখ ছোট রাখুন ও সঠিক জুতো পরুন
বর্ষাকালে পায়ের নখ যথাসম্ভব ছোট রাখুন। তা না হলে নখের ফাঁকে বাড়তি ময়লা ঢুকে দেখতে বিশ্রী লাগবে এবং ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে। সম্ভব হলে এই সময়ে পা ঢাকা জুতো পরুন। স্লিপ-অন জুতো পরলে কাদার ছিটে আপনার পোশাকেও লাগবে, যা মোটেই ভালো দেখাবে না। পা ঢাকা, বেল্ট দেওয়া জুতো পরতে পারলে খুব ভালো হয়। এতে যদি নিচু হিল থাকে, তবে রাস্তায় জমা অল্প-স্বল্প জলের হাত থেকে মুক্তি পাবেন। জুতোর গ্রিপ যেন ভালো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। হাই হিল পরে বর্ষাকালে হাঁটাচলা করা বিপজ্জনক হতে পারে।
এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে বর্ষার অস্বস্তি থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলবে এবং আপনার পা থাকবে সুস্থ ও সুন্দর।