দাঁত দিয়ে নখ কাটা: এক অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও মুক্তির উপায়

ছোটবেলা থেকেই কিছু অভ্যাস আমাদের সঙ্গী হয়, যার মধ্যে একটি হলো দাঁত দিয়ে নখ কাটা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অভ্যাসকে বলা হয় ‘অনিকোফেজিয়া’ (Onychophagia)। অনেক শিশু বড় হয়েও এই অভ্যাস ত্যাগ করতে পারে না, যা কেবল দেখতে খারাপই নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।
চিকিৎসকরা বলছেন, বিরক্তি, একঘেয়েমি, মানসিক উদ্বেগ বা কোনো কাজে গভীরভাবে মনোযোগী হওয়ার সময়ে অজান্তেই নখ দাঁতের কাছে চলে যায়। এই অভ্যাস সাময়িকভাবে তৃপ্তি দিলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কিন্তু বেশ মারাত্মক।
দাঁত দিয়ে নখ কাটার কুফল
দাঁত দিয়ে নখ কাটার বেশ কিছু শারীরিক ও নান্দনিক ক্ষতি রয়েছে:
সংক্রমণের ঝুঁকি: হাতের নখে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। দাঁত দিয়ে নখ কাটার সময় এই ব্যাকটেরিয়া সরাসরি মুখে প্রবেশ করে, যা থেকে পেটের গন্ডগোল বা অন্যান্য সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
দাঁতের ক্ষতি: বাচ্চাদের মধ্যে এই অভ্যাস বেশি দেখা যায়। এর ফলে দাঁতের গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অভিভাবকদের এই বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা উচিত।
নখের সৌন্দর্যহানি: দাঁত দিয়ে নখ কাটার ফলে নখের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়, নখ অমসৃণ ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
ত্বকের ক্ষত: দাঁতের তীক্ষ্ণতায় অনেক সময় নখের চারপাশের চামড়া কেটে গিয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তীতে সংক্রমিত হতে পারে।
বদভ্যাস রোধে করণীয়
এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে:
নখ ছোট রাখুন: নখ বড় থাকলেই দাঁত দিয়ে নখ কাটার প্রবণতা বাড়ে। তাই নখ সবসময় ছোট করে কাটুন। ছোট নখে ময়লাও কম জমে।
নেলপালিশ ব্যবহার করুন: নখে নেলপালিশ লাগিয়ে রাখুন। দাঁত দিয়ে নখ কাটতে গেলেই নেলপালিশের তিক্ত স্বাদ আপনাকে এই কাজ থেকে বিরত রাখবে।
ম্যানিকিওর করান: নিয়মিত ম্যানিকিওর করান। যত্ন করে সাজানো নখ দাঁত দিয়ে কেটে ফেলার আগে আপনি নিজেই দু’বার ভাববেন। এটি নখের প্রতি আপনার এক ধরনের যত্নশীল মনোভাব তৈরি করবে।
সচেতন থাকুন: অন্যমনস্ক থাকলে দাঁত দিয়ে নখ কাটার মতো কয়েকটি বদভ্যাসের জন্ম হয়। মন সচেতন রাখুন এবং যখনই নখ কাটার প্রবণতা দেখা দেবে, তখনই নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করুন। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার, তবে ধৈর্য ধরে চেষ্টা করলে অবশ্যই সফল হবেন।
মানসিক চাপ কমান: দাঁত দিয়ে নখ কাটার নেপথ্যের একটি বড় কারণ হলো মানসিক চাপ বা উদ্বেগ। ধ্যান, প্রাণায়াম, যোগাসন ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। এতে শরীর ও মন দুই ভালো থাকবে।
এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসাটা সময়সাপেক্ষ হলেও অসম্ভব নয়। সঠিক পদক্ষেপ এবং নিজের প্রতি যত্নের মাধ্যমে আপনি এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে পারেন।