সন্তানের পুষ্টি: প্রোটিন পাউডার না ঘরে তৈরি খাবার? মায়েদের নতুন দুশ্চিন্তা!

সন্তানকে ঠিকমতো খাওয়ানো যেন আজকাল রীতিমতো যুদ্ধ মায়েদের কাছে। খাবারের প্রতি অনীহা প্রায় প্রতিটি শিশুর মধ্যেই দেখা যায়, যার ফলস্বরূপ তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব ঘটে। এই পুষ্টি পূরণের লক্ষ্যে অনেক অভিভাবকই বাজারের বিভিন্ন প্রোটিন পাউডার বেছে নেন। কিন্তু এই প্রোটিন পাউডারগুলো নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্ক চলছে।
প্রোটিন পাউডার: কতটা নিরাপদ?
বাজারে প্রচলিত বেশিরভাগ প্রোটিন পাউডারেই কৃত্রিম ফ্লেভার এবং প্রিজারভেটিভ থাকে, যা বাড়ন্ত শিশুদের জন্য মোটেই ভালো নয়। ২০১৩ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রিজারভেটিভযুক্ত প্যাকেটজাত প্রোটিন পাউডার নিয়মিত সেবনের ফলে কিডনিতে পাথর, লিভারের সমস্যা, সংবহনতন্ত্রের রোগ এবং হাড়ের অসুখ দেখা দিতে পারে।
শিশুদের প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা তাদের বয়স, শারীরিক কার্যকলাপের মাত্রা এবং লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে।
১ থেকে ৩ বছর বয়সী: প্রতিদিন ১৩ গ্রাম প্রোটিন।
৪ থেকে ৮ বছর বয়সী: প্রতিদিন ১৯ গ্রাম প্রোটিন।
৯ থেকে ১৩ বছর বয়সী: প্রতিদিন ৩৪ গ্রাম প্রোটিন।
১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী: প্রতিদিন ৫০ গ্রাম প্রোটিন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রোটিন পাউডারের প্রয়োজনীয়তা তখনই হয়, যখন শিশুরা নিয়মিত খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রোটিন পায় না। শিশুদের প্রোটিন পাউডার খাওয়ানোর আগে পুষ্টিবিদ বা শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রোটিনের প্রাকৃতিক উৎস
প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস হল টাটকা মাংস, তৈলাক্ত মাছ, ডিম, তাজা দুগ্ধজাত দ্রব্য এবং ডাল, পালংশাক ও ব্রকলির মতো সবজি। এই প্রাকৃতিক উৎসগুলো শিশুদের জন্য নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।
ঘরেই তৈরি করুন প্রোটিন পাউডার
শিশুদের জন্য বাড়িতেই স্বাস্থ্যকর প্রোটিন পাউডার তৈরি করা সম্ভব। এটি একদিকে যেমন নিরাপদ, তেমনই পুষ্টিকর।
উপকরণ:
৩ কাপ গুঁড়ো দুধ
১ কাপ ওটস
১ কাপ বাদাম (কাজু, আমন্ড, আখরোট মেশানো যেতে পারে)
পরিমাণ মতো গুড়, চিনি বা সুইটনার (স্বাদ অনুযায়ী)
প্রস্তুত প্রণালী:
একটি ব্লেন্ডারে সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন যতক্ষণ না মসৃণ পাউডার তৈরি হয়। পাউডারটি একটি পরিষ্কার বয়ামে সংরক্ষণ করুন। অনেকদিন সংরক্ষণ করতে চাইলে বয়ামটি ফ্রিজে রাখতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে তৈরি এক চামচ প্রোটিন পাউডারে প্রায় ১৮০ ক্যালোরি বা ১২ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করে মায়েরা তাদের সন্তানের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারেন এবং অস্বাস্থ্যকর প্রোটিন পাউডার ব্যবহারের ঝুঁকি এড়াতে পারেন। আপনার সন্তানের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে কি?