পরকীয়া ও পোষা প্রাণী: বিড়ালপ্রেমী নারীরা কি সম্পর্কে বেশি জড়ান?

বিশ্বজুড়ে পরকীয়া সম্পর্ক উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যার ফলস্বরূপ বিবাহবিচ্ছেদের হারও বেড়ে চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের সম্পর্ক পারিবারিক জীবনে অশান্তি ডেকে আনে এবং অবশেষে বিচ্ছেদে গড়ায়। পরকীয়া নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি একটি ডেটিং ওয়েবসাইট ‘ইলিসিটএনকাউন্টারস’-এর একটি সমীক্ষা এই বিষয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে।
পরকীয়া ও পোষা প্রাণী: এক অদ্ভুত যোগসূত্র
আমেরিকার জনপ্রিয় ডেটিং ওয়েবসাইট ‘ইলিসিটএনকাউন্টারস’ সম্প্রতি পরকীয়ায় জড়িত ১৪০০ নারীর ওপর একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী নারীদের বয়স, পেশা বা আর্থ-সামাজিক তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। সমীক্ষায় জানতে চাওয়া হয়, যে নারীরা পরকীয়ায় লিপ্ত, তারা কোন ধরনের পোষা প্রাণী পুষতে বেশি পছন্দ করেন।
সমীক্ষার ফলাফল বেশ আকর্ষণীয়। এটি দেখিয়েছে যে, পরকীয়ায় জড়িত নারীদের মধ্যে বিড়াল সবচেয়ে জনপ্রিয় পোষা প্রাণী। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২২ শতাংশ নারী যারা পরকীয়ায় লিপ্ত, তারা বিড়াল পোষার কথা জানিয়েছেন।
অন্যান্য পোষা প্রাণীর প্রতি আগ্রহ
তবে শুধু বিড়ালই নয়, অন্য প্রাণী পোষার আগ্রহও অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্যে দেখা গেছে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, পছন্দের পোষা প্রাণীর তালিকাটি ছিল এমন:
বিড়াল: ২২ শতাংশ
মাছ: ১৯ শতাংশ
হ্যামস্টার: ১৭ শতাংশ
গিনিপিগ: ১৬ শতাংশ
টিকটিকি: ১৫ শতাংশ
কচ্ছপ: ১৪ শতাংশ
পাখি: ১৩ শতাংশ
কুকুর: ১২ শতাংশ
সাপ: ৫ শতাংশ
খরগোশ: ২ শতাংশ
বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?
যদিও এই সমীক্ষার ফলাফল বেশ কৌতূহলোদ্দীপক, তবে মনে রাখা জরুরি যে, এ ধরনের সমীক্ষার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এটি কেবল একটি ডেটিং ওয়েবসাইটের চালানো একটি জরিপ, যা কোনো প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানদণ্ড পূরণ করে না। তাই এই ফলাফলকে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
এই সমীক্ষা কেবল একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর পছন্দের উপর আলোকপাত করে, যা সামগ্রিকভাবে পরকীয়া সম্পর্কের কারণ বা এর সঙ্গে পোষা প্রাণীর মালিকানার কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করে না। তবুও, এই ধরনের তথ্য মানুষের কৌতূহল মেটাতে সাহায্য করে এবং সামাজিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে।