ঘরের নতুন রঙে আনুন সজীবতা: দেয়াল রাঙানোর সহজ টিপস

দীর্ঘ সময় ধরে একই রঙের ঘরের দেয়াল দেখতে দেখতে একঘেয়েমি চলে আসাটা স্বাভাবিক। ঘরের রঙে পরিবর্তন আনা শুধু বাড়ির পরিবেশেই নতুনত্ব আনে না, বরং আমাদের মনেও সতেজতা যোগ করে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন ঘর রঙ করা একটি ভীষণ ঝামেলার কাজ। তবে সঠিক পরিকল্পনা এবং কিছু সহজ টিপস জানা থাকলে এই কাজটিও কিন্তু বেশ সহজ হয়ে যায়।

ঘর রঙ করার আগে যা মাথায় রাখবেন
ঘর রঙ করার আগে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ আপনার সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে।

ঘর ফাঁকা করুন: রঙ করার আগে ঘরের বড় আসবাবপত্রগুলোকে ঘরের মাঝখানে এনে পুরনো কাপড়, কাগজ বা প্লাস্টিক দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিন। এতে রঙের ছিটে লেগে আসবাব নষ্ট হওয়ার ভয় থাকবে না।
দেয়ালের খুঁত সারান: রঙ করার আগে দেয়ালের যেকোনো খুঁত যেমন – ফাটল, গর্ত বা অসমতা ঠিক করা জরুরি। পুরনো রঙ ঘষে তুলে ফেলুন এবং দেয়ালের ছোট-বড় গর্ত মেরামত করে নিন। রঙ করার আগে মেঝে খবরের কাগজ বা প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে নিতে ভুলবেন না।
রঙ নির্বাচনের আগে পরীক্ষা করে নিন
আপনার পছন্দের রঙটি আপনার ঘরে মানানসই হবে কিনা, তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

রঙের শেড পরীক্ষা: আপনি হয়তো সবুজ রঙ করতে চান, কিন্তু সবুজের তো অসংখ্য শেড আছে। কোন শেড আপনার ঘরের আকৃতি, আলোর অবস্থান এবং সামগ্রিক পরিবেশের সঙ্গে মানানসই হবে, তা পুরো ঘর রঙ করার আগে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন। এতে সময় ও টাকা দুটোই বাঁচবে। রঙ করার পর একদিন অপেক্ষা করুন এবং দেখুন দিনের আলোয় বা রাতের কৃত্রিম আলোতে রঙটি কেমন লাগছে। প্রয়োজনে একাধিক রঙের শেড পরীক্ষা করতে পারেন।
দেয়ালের রঙে আনুন জীবনের ছোঁয়া
সাদা বা হালকা সাদার একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে এসে এবার ঘরের দেয়ালের পাশাপাশি নিজেদের জীবনেও রঙের ছোঁয়া আনুন।

রঙিন সমন্বয়: তবে এ ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকা জরুরি। যেমন, ছোট ঘরে পুরো বাড়ি কমলা বা বেগুনী রঙে রাঙালে ঘর আরও ছোট ও আবদ্ধ মনে হতে পারে। তাই রঙে বৈচিত্র্য আনুন। একটি দেয়াল আপনার পছন্দের গাঢ় রঙে রাঙাতে পারেন এবং ঘরের উজ্জ্বল রঙকে ভারসাম্য আনতে পর্দা ও অন্যান্য আসবাব হালকা রঙের রাখুন। সব মিলিয়ে দেয়ালের রঙের সঙ্গে আসবাবপত্র ও পর্দার রঙের সঠিক সামঞ্জস্য আপনার ঘরে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
প্রাইমারের গুরুত্ব ও ব্রাশের ব্যবহার
রঙ করার কাজটি মসৃণ ও সুন্দর করার জন্য কিছু কৌশল মেনে চলা দরকার।

প্রাইমারের ব্যবহার: রঙ করার প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রাইমিং। প্রাইমার দিলে দেয়ালের সব খুঁত ঢাকা পড়ে এবং দেয়াল রঙ বসার জন্য প্রস্তুত হয়। বিশেষ করে দেয়ালের গর্ত বা ফাটল মেরামতের পর প্রাইমার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। প্রাইমার ব্যবহারের পর এক কোট রঙ দিলেই চলে, যা রঙের খরচও অনেকটা বাঁচিয়ে দেয়।
রোলিংয়ের আগে ব্রাশ: সবসময় দেয়ালে রোলিং করার আগে ব্রাশ ব্যবহার করুন। বিশেষ করে মেঝে, ছাদ এবং দেয়ালের কোণাগুলোসহ যেসব জায়গায় রোলার পৌঁছায় না, সেখানে আগে ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো। এতে দেয়ালের উপরিভাগ দেখতে মসৃণ ও নিখুঁত লাগবে।
বাড়িতে যখন রঙের কাজ চলবে, তখন চোখে সেফটি গ্লাস এবং পুরনো কাপড় পরে থাকুন, যাতে রঙের ছিটে না লাগে। সব প্রস্তুতি যখন শেষ, তখন আর দেরি কিসের? আজই আপনার বাড়িটিকে নতুন রঙে রাঙানোর পরিকল্পনা করে ফেলুন!