উপুড় হয়ে ঘুমানো কি আপনার অভ্যাস? ডেকে আনছেন অজান্তেই বিপদ!

সুস্থ থাকার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ঘুম খুব জরুরি। একেক জনের একেকভাবে ঘুমানোর অভ্যাস। কেউ সোজা হয়ে, কেউ কাত হয়ে, কেউ আবার চিত হয়ে ঘুমান। তবে আমাদের অনেকেরই উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস। উপুড় হয়ে না ঘুমালে অনেকের ঘুমই আসে না।
এছাড়াও অনেকেই উপুড় হয়ে বই পড়তে বা লেখালেখি করতেও ভালোবাসেন। তবে এভাবে শোয়া সাময়িক আরামদায়ক মনে হলেও, এই অভ্যাসের কারণে মেরুদণ্ড, শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের বিশ্রাম ও ঘুমের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
চিকিৎসকরা সব সময় উপুড় হয়ে শোয়ার বদলে চিত হয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে এসেছেন। চিত হয়ে শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা, কোমরে ব্যথা এমনকি ত্বকের সমস্যারও অনেক উপকার পাওয়া যায়।
উপুড় হয়ে ঘুমানোর ক্ষতিকর দিকগুলো:
মেরুদণ্ড ও অন্ত্রের ওপর চাপ: উপুড় হয়ে ঘুমালে মেরুদণ্ড বা অন্ত্রের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস ঘাড় ও পিঠে ব্যথার কারণ হতে পারে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা: উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এর ফলে অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাতও ঘটে। আর পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শারীরিক নানান জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
অপূর্ণ বিশ্রাম: শরীরের সঠিক বিশ্রাম এবং মাংসপেশীর শিথিলতার জন্য উপুড় হয়ে ঘুমানো অনুকূল নয়।
অভ্যাস পরিবর্তনে করণীয়:
যে কাজগুলো এতদিন উপুড় হয়ে করে এসেছেন, এবার সেগুলো বসে করার অভ্যাস করুন। চেয়ারে বসে কাজ করুন। তবে চেয়ারে বসে কাজ করছেন মানেই সব সময়ে হেলান দিয়ে বসবেন না। সামনের দিকে ঝুঁকে বসে কাজ করাই শরীরের জন্য উপকার।
ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন করা সহজ নয়, তবে ধীরে ধীরে চেষ্টা করলে এটি সম্ভব। সুস্থ ও নিরোগ জীবনযাপনের জন্য সঠিক ভঙ্গিমায় ঘুম এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
আপনার কি উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস আছে? এই তথ্যগুলো জানার পর আপনি কি আপনার অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে আগ্রহী?