ব্রেন টিউমার: মাথাব্যথা মানেই কি বিপদ? জেনে নিন আসল লক্ষণ ও করণীয়

অনেকেই মনে করেন ব্রেন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ হলো মাথাব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখা। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, মাথাব্যথা মানেই ব্রেন টিউমার নয়। সাধারণত মাথাব্যথার ১ শতাংশেরও কম কারণ হলো ব্রেন টিউমার। তবুও, কিছু বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা বা তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা ও অন্যান্য প্রাথমিক লক্ষণ:
ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা সাধারণত খুব ভোরে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। খিঁচুনি সাধারণত হাতে, পায়ে বা শরীরের অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই মাথাব্যথা সহজে দূর হয় না এবং সাধারণ ব্যথানাশকেও উপশম হয় না।

মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে টিউমার হলে আলাদা আলাদা লক্ষণ দেখা দিতে পারে:

দৃষ্টিশক্তির সমস্যা: মস্তিষ্কের ভেতর পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে টিউমার হলে রোগীর দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। রোগী সামনের অংশটুকু ভালো দেখতে পেলেও দু’পাশে দেখতে পান না। ধীরে ধীরে একপর্যায়ে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও বিরল নয়।

স্মৃতিশক্তি হ্রাস: ব্রেনের সামনের অংশে বা ফ্রন্টাল লোবে টিউমার হলে রোগীর স্মৃতিশক্তি কমে যায়। দৈনন্দিন কাজকর্মেও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

আচরণগত পরিবর্তন ও প্যারালাইসিস: মাথাব্যথার যন্ত্রণায় রোগী অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন। মটর এরিয়ায় টিউমার হলে যেদিকে টিউমার তার উল্টো দিকে প্যারালাইসিস হয়ে থাকে, অর্থাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অসাড় হয়ে যেতে পারে।

ভারসাম্যহীনতা ও বাকশক্তি হ্রাস: মস্তিষ্কের খুলির নিচের প্রকোষ্ঠে টিউমার হলে রোগী হাঁটতে গেলে পড়ে যান বা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কানে ঠিকমতো শুনতে পান না এবং কথা স্পষ্ট করে বলতে পারেন না।

মৃত্যু ঝুঁকি: টিউমার বেশি বড় হয়ে গেলে রোগীর হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে।

ব্রেন টিউমার শনাক্তকরণ ও করণীয়:
ব্রেন টিউমার শনাক্তে সাধারণত এমআরআই (MRI) করতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যানের (CT Scan) প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন, সব মাথাব্যথা ব্রেন টিউমারের লক্ষণ না হলেও, যদি মাথাব্যথা অস্বাভাবিক মনে হয়, অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তীব্রতা বাড়ে, ঘুম ভাঙার পর মাথাব্যথা বেশি হয়, বা এর সঙ্গে খিঁচুনি, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, স্মৃতিভ্রম, শারীরিক দুর্বলতা বা ভারসাম্যহীনতার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসার সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

আপনার বা আপনার পরিচিত কারো মধ্যে এই ধরনের অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে নিউরোসার্জন বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।