প্যানিক অ্যাটাক নাকি হার্ট অ্যাটাক? লক্ষণ এক হলেও বুঝবেন যেভাবে!

প্যানিক অ্যাটাক (Panic Attack) এবং হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) প্রাথমিক কিছু লক্ষণ এতটাই একরকম যে, দুটির মধ্যে পার্থক্য করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন – অতিরিক্ত ঘাম, বুকে ব্যথা অনুভব, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এবং বমি বমি ভাব – এই উপসর্গগুলো উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে। এই সাদৃশ্যের কারণেই অনেক সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তবে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, যার মাধ্যমে প্যানিক অ্যাটাক এবং হার্ট অ্যাটাককে আলাদা করা সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাক, চেনার উপায়:
হার্ট অ্যাটাকের সময় অনুভূত হওয়া ব্যথা সাধারণত চেপে ধরা বা সংকোচনমূলক ধরনের হয়। ব্যথা বুকের ঠিক মাঝখান থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে বাঁ হাতের দিকে নেমে আসে এবং পিঠের দিকেও ছড়াতে পারে। এমনকি এই ব্যথা দাঁত, ঘাড় ও চোয়ালেও অনুভূত হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সাধারণত পাঁচ মিনিট স্থায়ী হয় এবং ক্রমশ বাড়তে থাকে। এই তীব্র ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের কারণে রোগীর মধ্যে মৃত্যুভয় কাজ করতে পারে এবং দ্রুত শ্বাস নিতে শুরু করে।
প্যানিক অ্যাটাক, চেনার উপায়:
প্যানিক অ্যাটাক সম্পর্কে অনেকেরই একটি ভুল ধারণা রয়েছে, বিশেষত এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো নিয়ে। প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণগুলো সাধারণত ১০ মিনিটের মধ্যে তীব্র হতে শুরু করে। হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা যেখানে মূলত বুকের বাঁ দিকে অনুভূত হয়, সেখানে প্যানিক অ্যাটাকের ব্যথা শুধু বাঁ হাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এমনকি ডান পায়ের আঙুল থেকেও এই ব্যথা অনুভূত হতে পারে (যা শুধুমাত্র প্যানিক অ্যাটাকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়)।
প্যানিক অ্যাটাক সাধারণত তখনই হয় যখন কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ভয় বা উদ্বেগে ভোগে। মানসিক অস্থিরতা এর একটি প্রধান কারণ।
সতর্কতা:
যদি আপনি কখনও এই দুটি অ্যাটাকের মধ্যে কোনো একটিরও সম্মুখীন হয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত একজন দক্ষ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্যানিক অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না করালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং ঘন ঘন এই ধরনের অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি একটি উন্নত জীবন পেতে পারেন। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা জীবন রক্ষাকারী হতে পারে। তাই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।