রাতের ঘুম নেই? জাদুকাঠির মতো কাজ করবে বাইনরাল বিটস!

কাজের চাপ, পারিবারিক অশান্তি, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বার্ধক্যজনিত কারণ কিংবা অতিরিক্ত চিন্তা – এই সমস্ত কারণে অনেকেরই রাতের ঘুম সহজে আসতে চায় না। দিনের পর দিন অনিদ্রা শরীরে বাসা বাঁধে একাধিক রোগের। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা স্বল্প মাত্রার ঘুমের ওষুধ দিলেও, অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে সাধারণত তা এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হজমের সমস্যা, পেটের অস্বস্তি এবং মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে এক বিশেষ ধরনের অডিও থেরাপি – বাইনরাল বিটস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গান শোনার মতোই এই বিটস ঘুম পাড়ানোর ক্ষেত্রে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
বাইনরাল বিটস আসলে এক ধরনের অডিও ইলিউশন। এখানে দুটি ভিন্ন টোনের আলাদা ফ্রিকোয়েন্সি একসঙ্গে শোনানো হয়। একটি টোন থাকে এক কানে এবং অন্যটি অন্য কানে। এর ফলে মস্তিষ্ক একটি তৃতীয় সাউন্ড তৈরি করে, যা সাধারণত একটি রিদমিক বিট হয়ে থাকে। মনে করা হয়, এই রিদমিক বিট বা তৃতীয় সাউন্ডটি নিউরনকে বৈদ্যুতিক বার্তা প্রেরণ করতে নির্দেশ দেয় এবং স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ‘ফ্রন্টিয়ার্স অফ সাইকিয়াট্রি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খারাপ মেজাজ ভালো করতে অডিও থেরাপির জুড়ি মেলা ভার এবং এক্ষেত্রে বাইনরাল বিটস অত্যন্ত কার্যকরী।
বাইনরাল বিটসের আওয়াজ মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়াকাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মনকে শান্ত করে, অ্যাংজাইটি দূর করে দ্রুত ঘুমোতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, এটি ব্রেনওয়েভ অ্যাক্টিভিটিকে রিল্যাক্স করে এবং অ্যাংজাইটি কমায়, যার ফলে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। এই থেরাপিটি থেটা ব্রেনওয়েভের (যা রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে) মতো ব্রেনওয়েভে কাজ করে, যা গভীর ঘুমে সাহায্য করে।
অনেকেই জানেন মন শান্ত করতে এবং শরীরকে রিল্যাক্স করতে সঙ্গীতের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্প্রতি ‘সায়েন্স ডিরেক্ট’-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, মানসিক ও শারীরিক চাপ কমাতেও সঙ্গীত দারুণ কাজ করে এবং কর্টিসল লেভেলও কমায়। এক্ষেত্রে, যেকোনো রিদমিক বিটসের মতোই বাইনরাল বিটসও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। এটি উচ্চ রক্তচাপ, শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
তাই, যদি আপনি রাতের ঘুমের সমস্যায় ভোগেন, তবে বাইনরাল বিটস একবার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি একটি সহজ, নিরাপদ এবং কার্যকর উপায় গভীর ঘুমের জন্য। তবে দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রার ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।