কর্মব্যস্ত জীবনেও ধরে রাখুন তারুণ্য! ৪০ পেরোলেও ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, শরীর সতেজ

আজকাল নারীরা শুধু সংসারের অর্থনৈতিক স্তম্ভই নন, পাশাপাশি সামলান অন্যান্য সকল দায়িত্বও। মাতৃত্বের গুরুভার তো রয়েছেই। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করা নারীর জীবনে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার সময় কোথায়?
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা করলে ত্বকে দ্রুত বার্ধক্যের ছাপ পড়তে পারে। তবে হাজার কাজের মাঝেও যদি শরীরের সঠিক পরিচর্যা করা যায়, তাহলে চল্লিশ কেন, ষাটেও ধরে রাখা সম্ভব তারুণ্য। কয়েকটি বিশেষ খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করলেই ত্বক ও শরীরে সতেজতা বজায় রাখা যায়। আসুন, দেখে নেওয়া যাক সেই খাবারগুলি, যা শরীরের ভেতর থেকে বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে:
১. ব্লুবেরি: কাজের সূত্রে প্রতিদিন রোদে বেরোতে হয় অনেককেই। এই রোদ এবং দূষণ শুধু ত্বকে দাগই ফেলে না, ত্বকের কোষের ক্ষতিও করে। তার উপর কাজের চাপ তো রয়েছেই। এই চাপ থেকে শরীরে প্রতিনিয়ত তৈরি হয় ফ্রি রেডিক্যালস, যা বলিরেখা থেকে শুরু করে বার্ধক্যের অন্যান্য লক্ষণ ত্বকে ফুটিয়ে তোলে। ব্লুবেরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে শরীর থেকে দূর করে। রোদ ও স্ট্রেসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সারিয়ে তোলে এই ফল। এছাড়াও, ব্লুবেরিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি, যা ত্বকের রিঙ্কলস দূরে রাখে।
২. বেদানা: শরীরে উৎপন্ন ফ্রি রেডিক্যালস ঠিক কী ক্ষতি করে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকে কোলাজেন নামে একটি পদার্থ থাকে যা ত্বককে টানটান রাখে এবং তারুণ্য বজায় রাখে। ফ্রি রেডিক্যালস ত্বকের এই কোলাজেনকে নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বকে রিঙ্কলস ও ফাইনলাইনসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। বেদানা এক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। বেদানার রস শরীরে ফ্রি রেডিক্যালসকে ধ্বংস করে এবং কোলাজেনকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে।
৩. মাশরুম: শুধু ত্বক নয়, চল্লিশের কোঠায় পড়লেই কোমর ব্যথা ও হাড়ের জয়েন্টের ব্যথায় জেরবার হয়ে পড়ে শরীর। অথচ সংসারের দায়িত্ব তো আর এড়ানো যায় না। কাজের চাপে শারীরিক স্ট্রেসের কারণে শরীর আরও ভেঙে পড়ে। শিরদাঁড়াতে ব্যথা শুরু হয়, হাঁটুতে জল জমে। ডাক্তাররা বলছেন, ক্যালসিয়ামের অভাব হাড়ের দুর্বলতার একটি প্রধান কারণ। আর হাড়ের দুর্বলতা থেকেই এসব রোগের সূত্রপাত। মাশরুম ভিটামিন ডি-এর অন্যতম উৎস। ভিটামিন ডি ছাড়া হাড় ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে না। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে মাশরুম খাওয়া জরুরি।
৪. বাদাম: শুধু ক্যালসিয়াম নয়, চল্লিশের কোঠা পেরোলে প্রোটিন, ফাইবার ও মাইক্রোনিউট্র্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতিও দেখা যায়। এর সঙ্গে শরীরে বাড়তে থাকে কোলেস্টেরলের পরিমাণ, যা ডেকে আনে হার্টের বিপদ। বাদামের মধ্যে আখরোট ও আমন্ড কোলেস্টেরল কমানোর জন্য বিশেষভাবে উপকারী। একইসঙ্গে শরীরে ঘাটতি হওয়া প্রোটিন, ফাইবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানও সরবরাহ করে এই বাদামগুলি।
৫. আনারস: ত্বকের মধ্যে থাকা কোলাজেন নামক পদার্থটি তৈরি হতে প্রয়োজন কয়েকটি অ্যামিনো অ্যাসিডের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চল্লিশের পর থেকে শরীরে এই অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে পর্যাপ্ত কোলাজেন তৈরি হতে পারে না। আনারসে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা এই অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে। তাই ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে আনারসের মতো ফলকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।
কাজের ব্যস্ততার মাঝেও এই খাবারগুলি আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করলে, চল্লিশ পেরোনোর পরেও ত্বক থাকবে সতেজ ও শরীর থাকবে প্রাণবন্ত। নিজের শরীরের যত্ন নিন, কারণ সুস্থতাই জীবনের আসল সম্পদ।