গর্ভের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে? কিছু লক্ষণ দেখে আঁচ করতে পারেন!

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি দম্পতির মনেই অনাগত সন্তানের লিঙ্গ জানার প্রবল ইচ্ছা থাকে। আধুনিক চিকিৎসায় আলট্রাস্নোগ্রাফির মাধ্যমে লিঙ্গ নির্ধারণ করা গেলেও, ভারতে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই এই বিষয়ে কোনো প্রকার অবৈধ পন্থা অবলম্বন করা উচিত নয়। তবে গর্ভবতী মায়ের কিছু শারীরিক লক্ষণ দেখে সন্তানের ছেলে বা মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা আঁচ করা যেতে পারে। যদিও এই লক্ষণগুলির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং কেবলমাত্র লোককথার উপর নির্ভরশীল, তবুও বহু মানুষ বিশ্বাস করেন এই ধারণাগুলিতে। আসুন, সেই লক্ষণগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

ওজন বৃদ্ধি: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গর্ভে ছেলে সন্তান থাকলে মায়ের দৈহিক ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাড়ে এবং পেট তুলনামূলকভাবে বেশি ফোলা মনে হয়। অন্যদিকে, মেয়ে সন্তান ধারণ করলে মায়ের সারা শরীরে, এমনকি মুখেও মেদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া: এমন লক্ষণ দেখা গেলে অনেকে মনে করেন গর্ভে ছেলে সন্তান রয়েছে।

চুলের ঘনত্বে পরিবর্তন: মায়ের চুলের বৃদ্ধির হার দেখেও নাকি সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়। লোককথায় প্রচলিত আছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের চুলের বৃদ্ধি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সকালের অসুস্থতা (মর্নিং সিকনেস): একাধিক লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বাঁ দিকে ফিরে ঘুমানো: গর্ভবতী মহিলা যদি ঘুমের সময় সাধারণত বাঁ দিকে ফিরে শোন, তবে অনেকে মনে করেন এটি ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ।

পেটের আকৃতি: যদি মায়ের পেট নিচের দিকে বেশি ঝুলে থাকে, তবে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হয়।

হার্ট রেটের ওঠা-নামা: গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যদি বাচ্চার হার্ট রেট প্রতি মিনিটে ১৪০ বিটের কম থাকে, তবে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রস্রাবের রং: লোককথায় প্রচলিত আছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রস্রাবের রং গাড় হলুদ হলে ছেলে সন্তান এবং উজ্জ্বল হলুদ হলে মেয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হাতের তালু শুকিয়ে যাওয়া: গর্ভাবস্থায় বারবার হাতের তালু শুকিয়ে যাওয়া ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ বলে মনে করা হয়।

ব্রণের প্রকোপ: গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ব্রণর প্রকোপ বেশি হলে অনেকে মনে করেন গর্ভে ছেলে সন্তান রয়েছে।

ক্ষুধা বৃদ্ধি: গর্ভবতী মায়ের যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্ষুধা লাগে, তবে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হয়।

ব্রেস্টের মাপ: গর্ভাবস্থায় ব্রেস্টের মাপ বৃদ্ধি পায়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ডান দিকের ব্রেস্টের চেয়ে বাঁ দিকের ব্রেস্ট ভারী হলে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: উপরোল্লিখিত লক্ষণগুলির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এগুলো শুধুমাত্র লোকবিশ্বাস। গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের একমাত্র বৈধ এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায় হল অ্যামনিওসেন্টেসিস বা কোরিওনিক ভিলাস স্যাম্পলিং-এর মতো পরীক্ষা, যা কেবলমাত্র বিশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতিতে এবং আইনি অনুমতি সাপেক্ষে করা হয়। লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।