রক্তের গ্রুপেও কি লুকিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ক্যানসার বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। স্তন, ফুসফুস, কোলন, মলদ্বার ও প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই মারণরোগে শরীরের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অনিয়মিত জীবনযাপন, তামাক-অ্যালকোহল সেবন, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও বায়ু দূষণ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স, লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয়, পারিবারিক ইতিহাস ও জিনগত কারণও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তবে সম্প্রতি এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, রক্তের গ্রুপের ওপরও নির্ভর করতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি! বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের সঙ্গে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের ঝুঁকির একটি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেস (এনএইচএস) অনুযায়ী, প্রধান চারটি রক্তের গ্রুপ হলো ও, এ, বি ও এবি। এই রক্তের গ্রুপ আসলে আমরা আমাদের পিতামাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জিন দ্বারা পেয়ে থাকি। এছাড়াও প্রতিটি গ্রুপ আরএইচডি পজিটিভ বা আরএইচডি নেগেটিভ হতে পারে।

রক্তের ধরনের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক:

বিভিন্ন গবেষণা ইতিমধ্যেই কিছু নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ‘প্লস ওয়ান’ জার্নালে ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ‘এ’ গ্রুপের রক্তের তুলনায় ‘বি’ গ্রুপের মানুষদের মধ্যে সব ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিই পরিসংখ্যানগতভাবে বেশি দেখা গেছে।

অন্যদিকে, আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ‘বি’ গ্রুপের রক্ত ધરાকারীদের মধ্যে পাকস্থলী ও মূত্রাশয় ক্যানসারের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি।

‘ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট’-এর জার্নালে প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এই গবেষণা অনুযায়ী, এ, বি ও এবি গ্রুপের মানুষের মধ্যে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। যেখানে ‘ও’ গ্রুপের মানুষের মধ্যে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ‘ও’ গ্রুপের রক্তের মানুষের তুলনায় ‘এ’ গ্রুপের রক্ত ધરાকারীদের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, ‘এবি’ গ্রুপের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ৫১ শতাংশ এবং ‘বি’ গ্রুপের ক্ষেত্রে ৭২ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বলে জানা গেছে।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার কী ও এর লক্ষণ:

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার তখনই হয়, যখন অগ্ন্যাশয়ের ভেতরের অস্বাভাবিক কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। অগ্ন্যাশয় হলো হজমের তরল উৎপাদনে সাহায্যকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি শরীরের সেই অঞ্চলকেও প্রভাবিত করতে পারে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। এগুলি হলো:

পেটে তীব্র ব্যথা যা ক্রমশ পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
অস্বাভাবিকভাবে ক্ষুধা ও ওজন কমে যাওয়া।
ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)।
হালকা রঙের মল ত্যাগ।
গাঢ় রঙের প্রস্রাব।
হঠাৎ করে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস দেখা দেওয়া।
শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা এবং
অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা।
এই প্রাথমিক গবেষণা রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করেছে। তবে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন, যাতে ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়। যাদের শরীরে উপরে উল্লেখ করা রক্তের গ্রুপ রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে সতর্ক থাকা উচিত।