মুখের ফোলা ভাব আর নয়! এই ৫ ব্যায়ামেই ঝরাবে মুখের অতিরিক্ত মেদ

পেটের মেদ ঝরানো অনেকের কাছেই সহজ হলেও, মুখের অতিরিক্ত মেদ নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। এই মেদের কারণে মুখ অস্বাভাবিক ভারী বা ফোলা দেখায়। থুতনির কাছে মেদ জমে তা গলা পর্যন্ত ঝুলে গিয়ে চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট করে।
মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাই মুখের অতিরিক্ত মেদ ঝরানো জরুরি। কিন্তু কীভাবে? জেনে নিন এমন কয়েকটি ব্যায়াম যা মুখে জমা অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি ঝরাতে অত্যন্ত কার্যকর:
ব্যায়াম ১: চোখ বন্ধ করে চোখের পাতার উপর আঙুল রেখে নীচের দিকে টানুন এবং একই সাথে ভ্রু উপরের দিকে তোলার চেষ্টা করুন। এতে কপালে টান অনুভব করবেন। প্রতিদিন ৫ মিনিটের জন্য এই ব্যায়াম করুন। চোখের তলার জমা মেদ ঝরিয়ে ফেলতে এটি খুবই উপযোগী। এছাড়াও, চোখ বন্ধ অবস্থায় চোখের মণি একবার উপর থেকে নীচে এবং একবার নীচ থেকে উপরে ঘোরান। অনেকটা চোখ বন্ধ করে কিছু দেখার চেষ্টার মতো। অন্তত ১৫ মিনিট ধরে এই ব্যায়ামটি প্রতিদিন একবার করুন।
ব্যায়াম ২: মুখ যতটা সম্ভব হাঁ করে খুলুন যতক্ষণ না আপনার গাল, ঠোঁট এবং থুতনিতে টান বা চাপ অনুভব করছেন। এই অবস্থায় মিনিট দুয়েক থাকুন, তারপর ১০-১৫ সেকেন্ডের জন্য বিশ্রাম নিন। দিনে ৫-৬ মিনিট এই ব্যায়াম করলে মুখের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা মুখের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।
ব্যায়াম ৩: মুখের মধ্যে একটি বা দুটি আঙুল ঢুকিয়ে যতটা সম্ভব জোরে চুষুন অথবা এমনভাবে মুখের ভেতরে বাতাস টেনে গাল দুটিকে যতটা সম্ভব সংকুচিত করুন। এটি অনেকটা সেলফি তোলার সময় ‘পাউট’ করার মতো। প্রতিদিন অন্তত ১০ বার এই ব্যায়াম করলে গালের ফোলা ভাব দ্রুত কমে।
ব্যায়াম ৪: মাথা পেছন দিকে যতটা সম্ভব হেলিয়ে নিন এবং দুই হাত দিয়ে গালের উপর সমানভাবে চাপ সৃষ্টি করুন। একই সাথে মুখ বন্ধ রেখেই হাসার চেষ্টা করুন। অন্তত ১০ মিনিট নিয়মিত এই ব্যায়াম করতে পারলে গাল থেকে অতিরিক্ত মেদ সহজেই কমে যাবে।
ব্যায়াম ৫: ধীরে ধীরে মাথা যতটা সম্ভব পেছন দিকে হেলান, যতক্ষণ না ঘাড়ে চাপ অনুভব করছেন। এবার চোয়াল ডান দিক থেকে বাঁ দিক এবং বাঁ দিক থেকে ডান দিকে ধীরে ধীরে ঘোরানোর চেষ্টা করুন। দিনে ৩-৪ মিনিট করে অন্তত ৫ বার এই ব্যায়াম করলে ঘাড় ও গলার পেশি টানটান হবে এবং একই সাথে ঘাড় ও গলার অতিরিক্ত মেদও ঝরে যাবে।
এই ব্যায়ামগুলো নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে আপনি মুখের অতিরিক্ত মেদ কমাতে এবং আপনার মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে পারেন। তবে ধৈর্য ধরে নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি।