পার্লারের খরচ বাঁচান! ঘরোয়া উপায়ে করুন কেরাটিন ট্রিটমেন্ট, চুল হবে ঝলমলে

বর্তমানে চুলের যত্নে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট একটি জনপ্রিয় নাম। চুলের হারানো কেরাটিন ফিরিয়ে এনে চুলকে মসৃণ ও ঝলমলে করে তোলাই এই ট্রিটমেন্টের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন পার্লার এবং বিউটি স্যালনে এই পরিষেবা পাওয়া গেলেও, অনেকেই খরচ বা সময়ের অভাবে তা করাতে পারেন না। তবে জেনে রাখা ভালো, চাইলে কিছু ঘরোয়া উপায়েও আপনি আপনার চুলে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করতে পারেন।
প্রথমেই জানা দরকার, আপনার চুলে কেরাটিন ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন আছে কিনা। যদি দেখেন আপনার চুল অতিরিক্ত রুক্ষ ও উসকো খুশকো হয়ে যাচ্ছে, আঁচড়ানোর পরেও অগোছালো থাকছে এবং সহজে সেট করা যাচ্ছে না, তাহলে বুঝবেন আপনার চুলের প্রাকৃতিক কেরাটিন নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও, চুলের আর্দ্রতার অভাবে আগা শক্ত হয়ে গেলে এবং এক গোছা চুল ধরে আগার দিকে লক্ষ্য করলে যদি তা নিচের দিকে ঝুলে থাকার বদলে সোজা হয়ে থাকে, তবে বুঝবেন চুল রুক্ষ্ম হয়ে পড়েছে এবং কেরাটিন ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন।
ঘরোয়া উপায়ে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করার পদ্ধতি:
কেরাটিন মাস্ক তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ:
পরিমাণমতো সাদা চালের নরম ভাত
৬ টেবিল চামচ নারকেলের দুধ
২ টেবিল চামচ নারকেল তেল
কেরাটিন মাস্ক ব্যবহারের নিয়ম:
১. প্রথমে ভাত ও নারকেলের দুধ ভালো করে ব্লেন্ড করে একটি মসৃণ ক্রিম তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, নারকেলের দুধের পরিমাণ চালের দ্বিগুণ হওয়া উচিত।
2. এরপর এই মিশ্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন।
3. মাস্ক তৈরি হয়ে গেলে, অল্প অল্প করে চুল নিয়ে আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ভালোভাবে লাগান।
4. পুরো চুলে মাস্ক লাগানো হয়ে গেলে, ছোট চুল হলে খোলা রাখুন এবং বড় চুল হলে হালকা করে পনিটেইল করে নিন, বেশি টাইট করে বাঁধবেন না।
5. এই কেরাটিন মাস্ক চুলে ২০-৩০ মিনিট রেখে দিন।
6. নির্ধারিত সময় পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। শুধু জল দিয়ে ধুলে মাস্ক ভালোভাবে পরিষ্কার হবে না।
7. শ্যাম্পু করার পর চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
8. সবশেষে, চুল হালকা ভেজা থাকা অবস্থায় হেয়ার আয়রন দিয়ে স্ট্রেইট করে নিন।
দেখবেন, আপনার চুলে ফিরে এসেছে সেই হারিয়ে যাওয়া চকচকে ভাব।
তবে এই ঘরোয়া কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করার আগে অবশ্যই চুল পরিষ্কার করে নিন। চুলে ঘষে ঘষে প্যাক লাগাবেন না। চুলের একেকটা গোছা ধরে আলতো হাতে উপর থেকে নিচের দিকে লাগান। এই মাস্ক স্ক্যাল্পে লাগালেও কোনো ক্ষতি নেই, কারণ চুলের ভেতরে প্রোটিন প্রবেশ করাই মূল উদ্দেশ্য। যাদের চুল সামান্য রুক্ষ্ম, তারা ঘরোয়া এই উপায়ে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন। ভালো ফলাফল পেতে মাসে সর্বোচ্চ দুবার এই ট্রিটমেন্ট করুন। নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে পার্লারের expensive ট্রিটমেন্ট ছাড়াই আপনার চুল হয়ে উঠবে মসৃণ ও ঝলমলে।