চা-সিগারেটের যুগলবন্দি ডেকে আনতে পারে মহাবিপদ!

বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ গরম চায়ের সাথে ধূমপান করার অভ্যাস। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস অনেকের কাছে নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দূর করতে প্রায়শই গরম চায়ের সাথে জ্বলন্ত সিগারেট হাতে দেখা যায় অনেককে।

তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, চা আর সিগারেটের এই মারাত্মক যুগলবন্দি আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি কতটা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সম্প্রতি চিকিৎসা সংক্রান্ত বিখ্যাত পত্রিকা ‘অ্যানাল্স অফ ইন্টারনাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা এই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। গবেষণাটি বলছে, চা এবং সিগারেট একসঙ্গে খেলে শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যে ব্যক্তিরা নিয়মিত ধূমপান এবং মদ্যপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে গরম চা পানের অভ্যাস খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তামাক এবং অ্যালকোহল উভয়েই স্বতন্ত্রভাবে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট।

অতএব, ক্যানসারের মতো মারণ রোগ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ধূমপান এবং মদ্যপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। আর এই বদভ্যাসগুলোর সাথে যদি গরম চায়ের নিয়মিত সেবন যুক্ত হয়, তাহলে স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা কারো অজানা নয়। এর ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে নানাভাবে প্রচারও করা হয়। এমনকি সিগারেটের প্যাকেটেও স্পষ্টভাবে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ ছাপা থাকে। প্রতি বছর ৩১ মে বিশ্ব তামাক বর্জন দিবস (World No Tobacco Day) পালিত হলেও, বাস্তবে এর তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায় না।

গবেষণা আবারও প্রমাণ করলো, বেশিরভাগ মানুষই হাতে গরম চায়ের কাপ নিয়ে, ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট ধরিয়ে নিজেদের অজান্তেই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাই নিজের জীবন বাঁচাতে এবং ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগ থেকে দূরে থাকতে আজই এই ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করা বুদ্ধিমানের কাজ।