রবীন্দ্রনাথের স্পর্শে নতুন নাম পেল বিদেশি ও দেশি ফুলগাছেরা

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু সাহিত্য বা সঙ্গীতেই নন, প্রকৃতির প্রতিও ছিলেন গভীর সংবেদনশীল। তাঁর শান্তিনিকেতনের সবুজ প্রাঙ্গণ ছিল বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গাছপালায় সমৃদ্ধ। এই গাছগুলির মধ্যে বেশ কিছু গাছকে কবি নিজের মতো করে নতুন নাম দিয়েছিলেন, যা আজও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
আর্জেন্টিনার উইলিয়াম উইন্সটানলি পিয়ারসন রবীন্দ্রনাথের কোনার্ক বাড়িতে একটি লতানো গাছ এনে দিয়েছিলেন, যার বিজ্ঞানসম্মত নাম পেট্রিয়া ভলুবিলিস। কবি এই উজ্জ্বল নীল রঙের ফুলটিকে ভালোবেসে নাম দিয়েছিলেন নীলমণিলতা।
অন্যদিকে, ক্লেমাটিস গৌরিয়ানা, যা ইন্ডিয়ান ট্রাভেলার্স জয় নামেও পরিচিত, আদতে এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা মেলে। এই লতানো গাছটির সৌন্দর্য কবিকে মুগ্ধ করেছিল এবং তিনি এর নতুন নামকরণ করেন তারাঝরা।
সাঁওতালদের অত্যন্ত প্রিয় একটি বনজ ফুল হল লাঙ্গল ফুল, যার বিজ্ঞানসম্মত নাম গ্লোরিওসা সুপারবা। এই উজ্জ্বল ফুলটিকে রবীন্দ্রনাথ এক নতুন পরিচয় দিলেন, বাঙালির কাছে তা পরিচিত হল অগ্নিশিখা নামে।
মিষ্টি মটর, যার বিজ্ঞানসম্মত নাম লাথিরাস ওডোরাটাস, তার তীব্র সুগন্ধের জন্য পরিচিত। কবি এই মিষ্টি গন্ধওয়ালা ফুলটির নামকরণ করেছিলেন শ্বেতমণি সৌরভি।
ঘোড়ানিম বা আকাশনিম গাছ, যার বিজ্ঞানসম্মত নাম মিলিংগ্টোনিয়া হরটেনসিস, অনেকের কাছেই পরিচিত। তবে কবিগুরু এই গাছটিকে এক নতুন কাব্যিক নামে অভিষিক্ত করেছিলেন – হিমঝুরি।
সাদা রঙের ছোট ছোট ফুলে ভরা ইউফোবিয়া লিউকোসেফালা মূলত স্নোফ্ল্যাক ইউফোরবিয়া নামেই পরিচিত। কবি এই স্নিগ্ধ সুন্দর ফুলটিকে নাম দিয়েছিলেন ফুলঝুরি।
দ্রুত বর্ধনশীল মাঝারি আকারের গাছ একাসিয়া অরিকুলিফরমিসের ছোট সবুজ পাতা এবং হলুদ রঙের ফুল সহজেই নজর কাড়ে। রবীন্দ্রনাথ এই গাছটির নামকরণ করেন সোনাঝুরি, যে নামে আজও বিভিন্ন স্থানে হাট বসে।
অনেকের কাছেই হয়তো অপরিচিত দেশজ ফুল প্যাভেটা ইণ্ডিকা, যা সাধারণত বনেবাদাড়ে অবহেলায় দেখা যায়। কবি এই ফুলটিকেও আপন করে নিয়েছিলেন এবং তার নামকরণ করেছিলেন বনপুলক।
বাগানবিলাস ফুলের উজ্জ্বলতা ও প্রাচুর্য সকলেরই পরিচিত। এই জনপ্রিয় ফুলগাছটিরও একটি সুন্দর বাংলা নাম দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ, যা হল বাগানবিলাস।
এভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু প্রকৃতির শোভা উপভোগই করেননি, বরং তাঁর poetical touch-এর মাধ্যমে এই গাছপালাগুলিকে বাঙালির হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান করে দিয়েছিলেন। তাঁর দেওয়া এই সুন্দর নামগুলি আজও প্রকৃতির প্রতি আমাদের ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তোলে।