রাতে বারবার গলা শুকিয়ে যায়? অবহেলা করবেন না, হতে পারে কঠিন রোগের ইঙ্গিত!

রাতে ঘুমের মধ্যে অনেকেই জলের পিপাসা অনুভব করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বারবার গলা শুকিয়ে আসে। এটি কি সাধারণ কোনো সমস্যা নাকি কোনো কঠিন রোগের পূর্বাভাস?
এ বিষয়ে অনেকেরই হয়তো সঠিক ধারণা নেই। অনেকেরই মনে হতে পারে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণেই এমনটি ঘটে। তবে জানলে অবাক হবেন, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, অ্যালঝেইমার, নার্ভের ক্ষতির মতো বিভিন্ন কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণেও কিন্তু রাতে বারবার গলা শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে।
আমেরিকান একাডেমি অব অটোলারিঙ্গোলজি-হেড অ্যান্ড নেক সার্জারির মতে, যখন মুখের ভেতরের লালা গ্রন্থিগুলো পর্যাপ্ত লালা তৈরি করতে পারে না, তখন একে বলা হয় জেরোস্টোমিয়া বা শুষ্ক মুখ। মূলত এই কারণেই মুখ ও গলা শুকিয়ে আসার অনুভূতি হয় বারবার।
শুষ্ক মুখের সমস্যার কারণে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যার পাশাপাশি এক্ষেত্রে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, মুখে ঘা, মুখের সংক্রমণ, দাঁতের ক্ষয়, গহ্বর ও মাড়ির রোগও দেখা দিতে পারে।
আপনি যদি রাতে বারবার গলা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা অনুভব করেন তাহলে সেটি কী কারণে ঘটছে, তা শনাক্ত করা জরুরি। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক রাতে শুষ্ক মুখের পাঁচটি সাধারণ কারণ সম্পর্কে-
১. সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান না করা:
কিছু ইলেক্ট্রোলাইট, এনজাইম ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল অণু ছাড়াও, লালা প্রাথমিকভাবে জল দিয়ে তৈরি। সুতরাং, আপনি যদি পর্যাপ্ত জল পান না করেন, তাহলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে লালা তৈরির জন্য যা প্রয়োজন তা নাও থাকতে পারে, ফলে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে।
তবে সন্ধ্যায় বা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস জল পান করাই কিন্তু রাতে তৃষ্ণার্ত হয়ে জেগে ওঠার সমস্যার সমাধান নয়। এক্ষেত্রে বরং রাতে বারবার ঘুম ভাঙবে ও টয়লেটে যেতে হবে প্রস্রাবের চাপে।
এই সমস্যার সমাধান হলো সারাদিন সঠিক হাইড্রেশন বজায় রাখা। এজন্য পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে। একই সঙ্গে তরলজাতীয় খাবার, ফলের রস, ডাবের জল ইত্যাদি পান করুন নিয়মিত।
২. কিছু ওষুধের প্রভাবে:
কিছু ওষুধের কারণে রাতে গলা শুকিয়ে যেতে পারে। যেমন- প্রস্রাবের অসংযম চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত কিছু ওষুধ, অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্টস ও উদ্বেগের ওষুধ, রক্তচাপের ওষুধ, অ্যান্টি হিস্টামিনস ও ডিকনজেস্ট্যান্ট।
এছাড়াও কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের মতো ক্যানসারের চিকিৎসা গ্রহণ করলেও শুষ্ক মুখের কারণ হতে পারে। এক বা একাধিক ওষুধের কারণে যদি আপনার এমনটি ঘটে, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
৩. মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া:
অনেকেই ঘুমের মধ্যে হা করে মুখ দিয়ে শ্বাস নেন নিজের অজান্তেই। এ কারণেও কিন্তু গলা শুকিয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন কারণে নাকের পরিবর্তে আপনি মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে পারেন।
যেমন- নির্দিষ্ট ঘুমের অভ্যাস, অ্যালার্জি বা ঠান্ডাজনিত কারণে নাক বন্ধ হওয়া, নাক ডাকা কিংবা নিদ্রাহীনতা। এই সমস্যাগুলোর কোনোটিতে ভুগলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
৪. শোয়ার আগে কি খাচ্ছেন বা পান করছেন?:
ঘুমানোর আগে তৃষ্ণা বাড়ায় বা শুষ্ক মুখের সমস্যা বাড়াতে পারে এমন খাবার ও পানীয়গুলো এড়িয়ে চলুন। উদাহরণস্বরূপ, ঘুমানোর ঠিক আগে নোনতা বা মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন গ্রহণের কারণেও মুখের আর্দ্রভাব কমে যায়।
এমনকি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়া ছাড়াও, তামাক ধূমপান আপনার লালা প্রবাহকে কমিয়ে দিতে পারে, যার কারণে যা রাতে মুখ ও গলা শুকিয়ে যেতে পারে।
৫. অন্যান্য কারণ:
ডায়াবেটিস
খামির সংক্রমণ (থ্রাশ)
স্ট্রোক
আলঝেইমার রোগ
নার্ভের ক্ষতি ইত্যাদি।
আপনি যদি রাতে প্রায়শই শুষ্ক মুখের সম্মুখীন হন, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কারণ এটি কোনো সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে এবং অন্তর্নিহিত কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।