গাঁটের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন? এই খাবারগুলো আজই বাদ দিন!

আমরা যা খাই, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরের পুষ্টির মাত্রার উপর। তাই খাবার নির্বাচনে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই জয়েন্ট পেইন বা গাঁটের ব্যথায় ভুগে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের এই ব্যথা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লাইম ডিজিজ, গাউট ও লুপাসের মতো রোগের কারণ হতে পারে।

শুধু বয়স্করাই নন, আজকাল অল্পবয়সীরাও জয়েন্ট পেইনের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। একটানা বসে কাজ করা, মানসিক চাপ, স্থূলতা, অতিরিক্ত ওয়ার্কআউট এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের মতো কিছু কারণ এই সমস্যার জন্ম দিতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা কিছু খাবার কিন্তু এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্থ্রাইটিসের কারণ হতে পারে। তাই জয়েন্ট পেইন এড়াতে এই খাবারগুলো পরিহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ—

চিনি:

অতিরিক্ত চিনি কখনোই শরীরের জন্য ভালো নয়। বরং চিনি থেকে যত দূরে থাকা যায়, ততই মঙ্গল। বেশি চিনি খেলে শরীরে সাইটোকাইনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর ফলে জয়েন্টে ব্যথা, জ্বালা ও ফোলাভাব বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকা থেকে চিনিকে বিদায় জানানোই শ্রেয়।

এমএসজি (MSG):

মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা এমএসজি একটি যৌগ যা মূলত খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। তবে এটি স্বাদ বৃদ্ধি করলেও জয়েন্ট পেইনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সেইসঙ্গে সারা শরীরে জ্বালা ও ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে। তাই এমএসজিযুক্ত খাবার এড়িয়ে যাওয়াই উচিত।

গ্লুটেন:

গ্লুটেন এক ধরনের প্রোটিন যা মূলত গম, রাই ও বার্লির মতো শস্যে পাওয়া যায়। এটি একটি আঠালো পদার্থ যা বেকিংয়ের সময় খাবারকে ফোলাতে সাহায্য করে। পাউরুটি, পাস্তা, রুটি, কেক, সস, চিপস ও বিয়ারের মতো খাবারে গ্লুটেন থাকে। অতিরিক্ত গ্লুটেনযুক্ত খাবার স্নায়ুর তন্তুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে পেশির স্বাভাবিক নড়াচড়ার ক্ষমতা ব্যাহত হয়। এছাড়াও ডায়রিয়া, পেটের ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা ও ত্বকের চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রেড মিট (লাল মাংস):

এই মাংস খেতে যতই সুস্বাদু হোক না কেন, জয়েন্ট পেইন বাড়াতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। আপনি যদি ইতিমধ্যেই জয়েন্ট পেইনে ভুগে থাকেন, তবে কম ফাইবার ও উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে রেড মিট খেলে পাকস্থলিতে কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এই ব্যাকটেরিয়া মাংসের কারনিটিন নামক উপাদান ভেঙে ট্রাইমিথাইল্যামিন যৌগে পরিণত করে। এটি রক্তে শোষিত হয়ে লিভারে বিপাক প্রক্রিয়ায় ভেঙে ট্রাইমিথাইল্যামিন-এন-অক্সাইডে পরিণত হয়, যা প্রদাহ সৃষ্টি করে জয়েন্ট এবং সংবহনতন্ত্রে।

সুতরাং, জয়েন্ট পেইন থেকে মুক্তি পেতে এবং আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমাতে এই খাবারগুলো আপনার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করুন।