৪০-এর আগেই মেনোপজ? জেনে নিন এর কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

সাধারণত মহিলাদের ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মেনোপজ বা ঋতুনিবৃত্তি হয়ে থাকে। তবে, যদি কোনও মহিলার ৪০ বছর বয়সের আগেই মেনোপজ হয়ে যায়, তবে তাকে আর্লি মেনোপজ বা premature menopause বলা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এর পিছনে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক কারণ থাকতে পারে এবং এই সমস্যাগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আর্লি মেনোপজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ:
১. থাইরয়েডের সমস্যা: থাইরক্সিন হরমোনের ক্ষরণ কমে গেলে হাইপোথাইরয়েডিজম রোগ দেখা দেয়। এই রোগ সরাসরি মহিলাদের পিরিয়ডের উপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে অনেক সময় পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার স্বাভাবিক সময় এগিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, থাইরয়েডের আরেকটি সমস্যা আর্লি মেনোপজের কারণ হতে পারে, সেটি হল অটো ইমিউন থাইরয়েডাইটিস।
২. অটো ইমিউন থাইরয়েডাইটিস: এই রোগটি সকলের হয় না। অটো ইমিউন রোগের মূল বৈশিষ্ট্য হল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে শরীরের সুস্থ কোষগুলিকে আক্রমণ করতে শুরু করে। অটো ইমিউন থাইরয়েডাইটিসের ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাইরয়েড গ্রন্থির কোষগুলিকে আক্রমণ করে। এর ফলে থাইরক্সিন হরমোনের ক্ষরণ ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং আর্লি মেনোপজের সম্ভাবনা বাড়ে।
৩. ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়া: মহিলাদের শরীরে সাধারণত ৩৫ বছর বয়সের পর থেকেই ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে। এই কারণে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপে এর প্রভাব পড়তে দেখা যায়। ইস্ট্রোজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত কমতে থাকলে পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার সময়ও এগিয়ে আসে, যা আর্লি মেনোপজের দিকে ধাবিত করে।
আর্লি মেনোপজ প্রতিরোধে সতর্কতা:
আর্লি মেনোপজের ঝুঁকি কমাতে বা এটি সম্পর্কে আগে থেকে জানতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, পিরিয়ডের ক্ষেত্রে কোনও রকম অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময় মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
পাঠকদের জন্য বিশেষ বার্তা: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সাধারণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। এখানে উল্লেখিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনওরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পেশাদার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো জিজ্ঞাসা বা সমস্যার সমাধানে সর্বদা বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করা উচিত।