সুপারফুডও হতে পারে পেটের সমস্যার কারণ! জানুন কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন

সুপারফুড—নাম শুনলেই মনে হয় স্বাস্থ্য আর পুষ্টিতে ভরপুর খাবার। কম ক্যালোরি আর প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ হওয়ায় এগুলোকে স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী মনে করা হয়। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, বিশেষজ্ঞরা বলছেন কিছু সুপারফুড হজমের সমস্যাও তৈরি করতে পারে! বিশেষ করে যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় অথবা যদি কারো কোনো বিশেষ খাদ্য সংবেদনশীলতা থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন সুপারফুডগুলো আপনার পেটের শান্তি কেড়ে নিতে পারে:
ক্রুসিফেরাস শাকসবজি (যেমন ব্রকলি, ফুলকপি):
ব্রকলি, ফুলকপির মতো ক্রুসিফেরাস শাকসবজি ফাইবার সমৃদ্ধ নিঃসন্দেহে। তবে উচ্চ মাত্রার ফাইবার এবং রাফিনোজের মতো নির্দিষ্ট শর্করা থাকার কারণে কারো কারো ক্ষেত্রে এগুলো পেট ফাঁপা বা গ্যাসের কারণ হতে পারে, যা হজম করা বেশ কঠিন।
চিয়া সিড:
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফাইবারের দারুণ উৎস চিয়া সিড। তবে এটি প্রচুর পরিমাণে জল শোষণ করে এবং পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করা হয় বা অতিরিক্ত চিয়া সিড খাওয়া হয়।
বাদাম এবং বীজ:
বাদাম এবং বীজে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ফাইবার প্রচুর পরিমাণে থাকে। তবে বেশি পরিমাণে খেলে এগুলো হজম করা কঠিন হতে পারে। এর ফলে পেট খারাপ বা গ্যাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দুগ্ধজাত খাবার:
প্রোবায়োটিক থাকার কারণে দুগ্ধজাত খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য সুপারফুড হিসেবে গণ্য হয়। তবে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স (দুধের চিনি হজম করতে না পারা) রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এই খাবারগুলো মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কাঁচা রসুন এবং পেঁয়াজ:
কাঁচা রসুন এবং পেঁয়াজে ফ্রুকটান নামক এক ধরনের FODMAP (ফার্মেন্টেবল অলিগোস্যাকারাইডস, ডিস্যাকারাইডস, মনোস্যাকারাইডস এবং পলিওলস) থাকে। এটি এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট যা হজম হতে বেশ সময় নেয়। ফলে পেট ফোলা, গ্যাস এমনকি ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
লেগুম (মসুর ডাল, ছোলা, মটরশুটি):
ডাল, ছোলা এবং মটরশুঁটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং প্রোটিন থাকে। তবে এতে অলিগোস্যাকারাইডও থাকে, যা অন্ত্রে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস এবং ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে।
গ্লুটেন-মুক্ত শস্য:
গ্লুটেন-মুক্ত শস্য পুষ্টিকর হলেও, কখনো কখনো সংবেদনশীল ব্যক্তিদের বা যারা উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবারে অভ্যস্ত নন, তাদের হজমের অস্বস্তি ঘটাতে পারে।
তাই সুপারফুড খাওয়ার সময়ও পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যদি কোনো বিশেষ সুপারফুড খাওয়ার পর হজমের সমস্যা অনুভব করেন, তবে তার পরিমাণ কমানো বা সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।