ভাতের মাড় ফেলনা নয়, রান্নার কাজেও লাগে দারুণ!

বাঙালি হেঁশেলে ভাতের মাড় ফেলে দেওয়ার চল বহুদিনের। কিন্তু জানেন কি, এই ফেলে দেওয়া জিনিসটিই রান্নার কাজে আসতে পারে দারুণভাবে? হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! রান্না করতে গিয়ে অনেক সময়েই যখন কর্নফ্লাওয়ারের অভাব বোধ হয়, তখন ভাতের মাড় হতে পারে তার সহজ এবং কার্যকরী বিকল্প। শুধু তাই নয়, আরও নানা ধরনের রান্নাতেও ভাতের মাড়ের ব্যবহার আপনাকে চমকে দিতে পারে।
কর্নফ্লাওয়ারের বিকল্প হিসেবে ভাতের মাড়ের ব্যবহার ইতিমধ্যেই অনেক গৃহিণীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষত যখন তাড়াহুড়োয় কৌটো খুলে দেখা যায় কর্নফ্লাওয়ার শেষ, তখন ভাতের মাড় সহজেই সেই অভাব পূরণ করতে পারে।
স্যুপ বা সস তৈরিতে:
চিকেন ক্লিয়ার স্যুপ কিংবা সুস্বাদু হোয়াইট সস তৈরি করতে কর্নফ্লাওয়ারের ব্যবহার অপরিহার্য। তবে অনেক সময়ে জলে মেশানোর পরেও কর্নফ্লাওয়ার দলা পাকিয়ে যায়, যা রান্নার স্বাদ ও টেক্সচার নষ্ট করে দেয়। এই সমস্যার সমাধানে ভাতের মাড় হতে পারে এক দারুণ উপায়। ভাতের মাড় ব্যবহার করে স্যুপ বানালে তা যেমন ঘন হয়, তেমনই সসও হয় একেবারে পারফেক্ট। না বেশি ঘন, না খুব পাতলা – একেবারে যেমনটি আপনি চান।
ডিমের বিকল্প:
যারা ডিম খান না অথবা ডিম ছাড়াই কেক বা মাফিন বানাতে চান, তাদের জন্য ভাতের মাড় এক চমৎকার বিকল্প হতে পারে। রন্ধনশিল্পীরা বলছেন, কেক বা মাফিনের নরম আর স্পঞ্জি টেক্সচার আনতে ডিমের পরিবর্তে ভাতের মাড় ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু তাই নয়, প্যানকেক বা কুকির ব্যাটার তৈরি করতেও ভাতের মাড় সমানভাবে উপযোগী।
ব্যাটার তৈরিতে মুচমুচে ভাব:
খিচুড়ির সঙ্গে গরম গরম বেগুনি কিংবা বিকেলে চায়ের সাথে চিকেন পকোড়া খেতে ভালোবাসেন নিশ্চয়ই? তবে একটা সাধারণ সমস্যা হলো, ভাজার কিছুক্ষণ পরেই এগুলো আর তেমন মুচমুচে থাকে না। এই সমস্যার সমাধানে জল ব্যবহার না করে, বেসন বা অ্যারারুটের মিশ্রণ তৈরি করুন ভাতের মাড় দিয়ে। ভাতের মাড়ের ব্যবহারে ভাজাভুজি অনেকক্ষণ পর্যন্ত মুচমুচে থাকবে, যা আপনার খাদ্য রসনাকে আরও তৃপ্ত করবে।
তাহলে, এরপর থেকে ভাতের মাড় ফেলে দেওয়ার আগে দুবার ভাবুন। আপনার রান্নাঘরের অনেক সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে এই সাধারণ অথচ অসাধারণ উপকরণটির মধ্যে। এবার রান্নার সময় ভাতের মাড়ের এই সকল ব্যবহার করে দেখুন আর তাক লাগিয়ে দিন সবাইকে!