ফ্লার্ট কি সত্যিই ভালো? অ্যান্টি-রোমান্টিক সপ্তাহে বিতর্ক

কটি সম্পর্কে থাকাকালীন অন্য কারও সঙ্গে ফ্লার্টিং করা নিঃসন্দেহে অনুচিত এবং সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে। ফ্লার্টের সাধারণ অর্থ হলো খেলাচ্ছলে প্রেমের ভান করা। তবে সম্প্রতি মনোবিদদের একটি ভিন্ন মত উঠে এসেছে। তাদের মতে, অল্প পরিমাণে ফ্লার্টিং নাকি কেবল সম্পর্কের জন্যই নয়, বরং আমাদের শরীর ও মনের জন্যও ইতিবাচক হতে পারে।
বর্তমানে চলছে অ্যান্টি-রোমান্টিক সপ্তাহ, এবং আজ এই সপ্তাহের চতুর্থ দিন – ‘ফ্লার্ট ডে’। এই বিশেষ দিনে কি তবে ফ্লার্ট করা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তরে মনোবিদরা বলছেন, হালকা ফ্লার্টিংয়ে কোনো ক্ষতি নেই, বরং এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আসুন, জেনে নেওয়া যাক ফ্লার্ট করা কেন আমাদের জন্য ভালো-
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: ফ্লার্টিং আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি আমাদের চারপাশের চাপ কমাতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে হালকা হাসি-ঠাট্টা অথবা সহকর্মীর সঙ্গে এক কাপ চা পান এবং বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে যারা একই সম্পর্কে আবদ্ধ, তাদের মধ্যে অনেকেই সঙ্গীর কাছে নিজেদের গুরুত্ব কমে যাওয়ার অনুভূতিতে ভুগতে পারেন। মনোবিদদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বাইরের কারও সঙ্গে সামান্য হাসিমুখে কথা বলাও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে পারে।
কাজের ক্ষেত্রে চাপ মুক্তি: ‘অর্গানাইজেশনাল বিহেভিয়ার অ্যান্ড হিউম্যান ডিসিশন প্রসেসেস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিক ফ্লার্টিং আমাদের স্ট্রেস এবং কাজের চাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে। একটি বন্ধুত্বপূর্ণ এবং হালকা কথোপকথন কাজের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
যোগাযোগের পরিধি বৃদ্ধি: সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লার্টিংয়ের মাধ্যমে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায় এবং নতুন সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। এর ফলে আমাদের যোগাযোগের পরিধি বাড়ে, যা আমাদের সামাজিক দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান যোগাযোগ-নির্ভর যুগে ফ্লার্টিংয়ে দক্ষ হলে অনেক ক্ষেত্রেই ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।
ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার: ফ্লার্টিং যে কারও জীবনে ইতিবাচক শক্তি নিয়ে আসতে পারে, বিশেষ করে যখন উভয় দিকে আকর্ষণ থাকে। এটি উভয়কেই পরিস্থিতির আনন্দ উপভোগ করতে সাহায্য করে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও আনন্দময় করে তোলে।
তবে ফ্লার্ট করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে আপনার আচরণে কেউ কষ্ট না পায়। এমন কোনো কথা বা ব্যবহার করা উচিত নয় যা অন্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ভারতের মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় একজন হয়তো নিতান্তই ফ্লার্ট করার জন্য কারও দিকে একটু বেশি মনোযোগ দিলেন, কিন্তু অন্যজন সেই ফ্লার্টিংকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেললেন। যা পরবর্তীকালে সমস্যার কারণ হতে পারে।’
তাই ‘ফ্লার্ট ডে’ নিয়ে উৎসাহিত হওয়ার আগে অন্যের মনের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যদি উভয়পক্ষের সম্মতি থাকে, তবেই ফ্লার্টিং করা উচিত!