অনেকেই আছেন যাঁরা রাতারাতি দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান। না খেয়েও ওজন কমানোর চেষ্টা করেন। এই পদ্ধতি ভুল। ওজন কমানোর জন্য ধৈর্য ধরতে হবে।
বেছে নিতে হবে সঠিক পদ্ধতি।
ওজন বাড়ছে?
বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী দেহের স্বাভাবিক ওজনের মাত্রা থাকে। বয়স, পেশা ও লিঙ্গ অনুসারে কোন খাবার কতটুকু খাওয়া প্রয়োজন, তা অনেকেরই জানা নেই। দীর্ঘ সময় টিভি ও কম্পিউটারের সামনে বসা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, মোবাইল ফোনসেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি ব্যস্ত থাকার কারণে কায়িক পরিশ্রম কম হয়। এ ছাড়া হাঁটার জায়গা অপ্রতুল হওয়ায় পর্যাপ্ত হাঁটার সুযোগ কম। আবার অনেকের মধ্যে এমন প্রবণতা আছে, সারা দিন না খেয়ে দিনে দু-একবার খান, যার ফলে খাবারের পরিমাণ বেশি হয়।
জাংক ফুড এবং ফাস্ট ফুড জাতীয় খাদ্যে মাত্রাতিরিক্ত তেল, চর্বি, মসলা ও লবণ থাকায় দ্রুত ওজন বাড়ে। তখন শরীরের বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়।
জটিলতা
ওজন বেশি বাড়লে ইনসুলিন নামের হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, ফলে অল্প বয়সে ডায়াবেটিস দেখা দেয়। এ ছাড়া অতিমাত্রায় দুশ্চিন্তা, ফ্যাটি লিটার, কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণে হার্ট ও স্ট্রোকের মতো অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। আশার খবর হলো, শুধু ওজন কমিয়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এসব শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
করণীয়
♦ সারা দিনে এক-দুইবার খাবার অভ্যাস ত্যাগ করুন। কেননা এতে খাবারের পরিমাণ বাড়ে বলে দেহে ক্যালরি বেশি ঢোকে, যা মুটিয়ে যাওয়ার কারণ।
♦ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য বাদ দিয়ে শুধু সবজি ও ফল খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না। সুষম বা ব্যালান্স ডায়েট না খেলে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
♦ জাংক ফুড ও ফাস্ট ফুড জাতীয় খাদ্য খাবেন না। এতে মাত্রাতিরিক্ত তেল, চর্বি, মসলা, লবণ থাকায় দ্রুত ওজন বাড়ে এবং খাদ্য উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়।
♦ প্রয়োজন ছাড়া বেশি রাত জাগবেন না। কারণ রাত জাগলে ক্ষুধা লাগে, বেশি খাওয়ার ফলে ওজন বাড়ে।
♦ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার একেবারে বাদ দেবেন না। হঠাৎ করে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বন্ধ করে দিলে মাথাব্যথা, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া, দুর্বলতা, অবসাদ, চামড়ায় র্যাশ, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।
♦ সকালের নাশতা বাদ দেবেন না। নাশতার তিন-চার ঘণ্টা পর হালকা নাশতা করুন।
♦ ওজন কমানোর আগে কিছু রুটিন টেস্ট যেমন রক্তে সুগারের মাত্রা, কোলেস্টেরল, ক্রিয়েটিনিন, ইউরিক এসিড ইত্যাদি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে সেই অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিন।