মুঠোফোনের কারণে ভাঙছে সংসার? কী বলছে সমীক্ষা?

মুঠোফোন বা স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই স্মার্টফোন আসক্তির কারণে ভাঙ্গন ধরতে পারে আপনার সম্পর্কে। সাম্প্রতিক সময়ের এক গবেষনা অন্তত বলছে এমনটিই।

মুঠোফোনের শব্দ ‘ফোন’ এবং ধমকানো এর ইংরেজি শন্দ ‘স্নাবিং’; এই দুইয়ের মিশিলে গবেষকেরা এক শব্দ ব্যবহার করেছেন ‘ফাবিং’। গবেষকেরা বলছেন, আপনার পার্টনার যদি আপনার থেকে বেশি মনযোগ তার মুঠোফোনে দেন আর তখন আপনি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলে যদি সে ধমক দেন তাহলে আপনার পার্টনার ফাবিং করছেন। আর এই ফাবিং এর কারণে নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে আপনাদের পারস্পরিক সম্পর্কে।

টেক্সাসের বেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ৪৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তিদের নিয়ে এক গবেষনা পরিচালনা করেন। সম্পর্কের ওপর ফাবিং কী প্রভাব ফেলে তা বুঝতেই এই গবেষনা পরিচালনা করা হয়। গবেষনায় অন্তত ৪৬ শতাংশ ব্যক্তি স্বীকার করেন যে, তারা তাদের পার্টনারের থেকে ফাবিং এর শিকার।

একই সাথে অন্তত ২৩ শতাংশ ব্যক্তি বলেছেন, ফাবিং এর কারণে তাদের পার্টনারের সাথে সম্পর্কে অবনতি হয়েছে। শুধু তাই নয় ফাবিং যারা করেন তারা খুব দ্রুত বিমর্ষ হয়ে পরেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রায় ৩৬.৬ শতাংশ ব্যক্তি বলেছেন ফাবিং এর কারনে তারা এক পর্যায়ে নিঃসঙ্গতা এবং বিমর্ষতায় ভুগতেন।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য জেমস রবার্ট বলেন, “ফাবিং এর কারণে সম্পর্কে অবনতি আসে। সম্পর্কের মধ্যে অসন্তুষ্টি বাড়ে। এই অসন্তোষ থেকে এক সময় মানুষ বিষন্নতায় ভোগে”।

তবে এই সমস্যার এক সম্ভাব্য সমাধানও দিয়েছেন গবেষকেরা। গবেষক দলের আরেক সদস্য মেরেডিথ ডেভিড এর জন্য মুঠোফোনের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “আর কিছু না হোক অন্তত রাতে ঘুমানোর আগে আধা ঘন্টা মুঠোফোন থেকে দূরে থেকে আপনার পার্টনারকে সঙ্গ দিন”।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy