সুগার মানেই কি হার্টের বারোটা? সমীক্ষায় উঠে এল আতঙ্কিত হওয়ার মতো তথ্য, আজই সাবধান হোন।

ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে—এই তথ্য নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে, তা চিকিৎসকমহলকে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগীদের হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি। এমনকি যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রেও হৃদরোগের ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল হয় না।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘকাল রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা রক্তনালী এবং হৃদপিণ্ডের পেশীর স্নায়ুগুলিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে ধমনীতে চর্বি জমে গিয়ে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস’ বলা হয়। সমীক্ষাটি জানাচ্ছে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের চিরাচরিত লক্ষণ যেমন বুকে ব্যথা অনুভূত হয় না। একে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ বলা হয়, যা আরও বেশি বিপজ্জনক।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, উচ্চ রক্তচাপ (High BP) এবং স্থূলতা (Obesity) যদি ডায়াবেটিসের সাথে যুক্ত হয়, তবে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই ঝুঁকি এড়াতে জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত শরীরচর্চা, কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবারের বদলে ফাইবার বা তন্তুযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং ধূমপান বর্জন করা হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখার প্রধান চাবিকাঠি। চিকিৎসকদের পরামর্শ, ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের নিয়মিত এইচবিএ১সি (HbA1c) পরীক্ষার পাশাপাশি লিপিড প্রোফাইল চেক করানো উচিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy