বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমাদের হাতের সময় খুব কম। সকালে অফিসের তাড়া হোক কিংবা রাতে বাড়ি ফিরে ক্লান্তি—রান্নাঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের জন্যই বেশ কষ্টসাধ্য। কিন্তু আপনি কি জানেন, সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই রান্নার সময় অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব?
আজ আপনাদের জানাব দ্রুত রান্না শেষ করার এমন ৭টি সেরা উপায়, যা আপনার প্রতিদিনের জীবনকে করবে আরও সহজ:
১. মেনু পরিকল্পনা ও প্রি-প্রিপারেশন: পরদিন কী রান্না করবেন তা আগের রাতেই ঠিক করে রাখুন। সম্ভব হলে সবজি কাটা বা মশলা বাটার কাজটুকু রাতে সেরে ফ্রিজে রেখে দিন। এতে রান্নার মূল সময়ে অনেকটা সাশ্রয় হয়।
২. গরম জলের ব্যবহার: রান্নায় সাধারণ জলের বদলে গরম জল ব্যবহার করুন। এতে তরকারি দ্রুত ফুটতে শুরু করে এবং স্বাদও বজায় থাকে। সবজি সেদ্ধ করার সময়ও এই কৌশল দারুণ কার্যকর।
৩. মশলার ‘রেডি টু ইউজ’ পেস্ট: আদা, রসুন বা পেঁয়াজ বারবার না বেটে একবারে বেশি করে পেস্ট করে আইস ট্রে-তে বা কাঁচের বয়ামে ভরে রাখুন। রান্নার সময় শুধু পরিমাণমতো দিয়ে দিলেই হলো।
৪. প্রেসার কুকারের সঠিক ব্যবহার: শুধু ডাল বা মাংস নয়, আলু সেদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সবজি রান্নায় প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন। এটি গ্যাসের সাশ্রয় করার পাশাপাশি সময় বাঁচায় প্রায় ৬০ শতাংশ।
৫. একই সাথে একাধিক কাজ (Multitasking): একদিকে ভাত হতে দিন, অন্য চুলায় তরকারি বসান। তরকারি কষানোর মাঝখানের সময়টুকুতে সালাদ কাটা বা বাসন ধোয়ার কাজ সেরে নিন। এতে রান্নার শেষে বাড়তি কাজের চাপ থাকবে না।
৬. ধারালো ছুরির ম্যাজিক: ভোতা বঁটি বা ছুরি ব্যবহারের কারণে সবজি কাটতে অনেকটা সময় নষ্ট হয়। তাই সবসময় ধারালো সরঞ্জাম ব্যবহার করুন। এতে কাজ হবে দ্রুত এবং নিখুঁত।
৭. ওয়ান-পট মিল (One-Pot Meal): খুব বেশি ব্যস্ত থাকলে খিচুড়ি, পোলাও বা স্টু-এর মতো খাবার তৈরি করুন যা একটি পাত্রেই হয়ে যায়। এতে রান্নাও দ্রুত হয় এবং বাসন মাজার ঝামেলাও কমে।
রান্নাঘরকে বোঝা মনে না করে এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আনুন। দেখবেন রান্না হয়ে উঠবে আনন্দদায়ক এবং দ্রুত।