রাজভবনে ‘গোলাবারুদ’ মিথ্যা প্রমাণিত! তল্লাশির পর ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR-এর প্রক্রিয়া শুরু

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজভবনে ‘দুষ্কৃতীদের আশ্রয় ও অস্ত্র সরবরাহের’ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হল। সোমবার বম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং সিআরপিএফ-কে নিয়ে রাজভবনে যৌথ তল্লাশি চালানোর পর স্বয়ং রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই দাবি করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, রাজভবনের কোনও কোণেই গোলাবারুদ তো দূরের কথা, আপত্তিকর কিছুই পাওয়া যায়নি।

এই মিথ্যা অভিযোগের জেরে চরম ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল। তল্লাশির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সম্মানীয় সাংসদ যে অভিযোগ করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালালাম… আমি নিজে রাজভবনের প্রতিটি কোনায় খুঁজে দেখলাম। কিছুই পেলাম না।”

রাজভবন সূত্রে খবর, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যপাল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মিথ্যা অভিযোগের জন্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না-হলে আইনের দরজা-সহ সমস্তরকম আইনি পথ খোলা রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগটির গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার জন্য লোকসভার স্পিকারকেও অনুরোধ করেছেন।

রাজ্যপাল এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেছেন কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সাংবিধানিক সহকর্মীর সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে বা হয়নি, তা এই মুহূর্তে বলার প্রশ্ন ওঠে না। তাঁর সঙ্গে আমার আলোচনা বরাবরই গোপন থেকেছে এবং গোপন থাকবে। সঠিক সময়ে প্রকাশ্যে আসবে।”

উল্লখ্য, রবিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে রাজ্যপাল বিজেপির দুষ্কৃতীদের আশ্রয় ও অস্ত্র সরবরাহ করছেন। এর পালটা জবাব দিয়ে রাজভবন রবিবারই জানিয়েছিল, রাজ্যপালের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা কলকাতা পুলিশই যদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে এমন অভিযোগ করা অর্থহীন। সোমবার রাজ্যপালের নির্দেশে এই তল্লাশি অভিযানে কলকাতা পুলিশের থাকার কথা থাকলেও, তাদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। উপস্থিত ছিল কেবল রাজভবন পুলিশ আউটপোস্টের কর্মীরা, সিআরপিএফ, বম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল। মহড়ার সুবিধার্থে এদিন রাজভবন খালি করা হয়েছিল।