মিনিট চারেকের ঘাম ঝরানো ব্যায়ামেই কি মিলবে মুক্তি? জীবন বদলে দেওয়া এই জাদুকরি টোটকা জেনে নিন!

ব্যস্ততম আধুনিক জীবনযাত্রায় শরীরচর্চা করার মতো পর্যাপ্ত সময় বের করা আজকের দিনে প্রায় অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসিয়াল চাপ, দীর্ঘক্ষণ কাজের দীর্ঘ সময় এবং কায়িক শ্রমের অভাবে বিশ্বজুড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সমস্যা মহামারীর রূপ নিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য এক যুগান্তকারী ও খুশির খবর সামনে এনেছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে যে, প্রতিদিন জিম বা ফিটনেস সেন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর কোনো প্রয়োজন নেই। মাত্র ৪ মিনিটের একটি বিশেষ ও সুনির্দিষ্ট ব্যায়াম রুটিনেই রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ফিটনেস মহলে এই নতুন গবেষণাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
হেলথ অ্যান্ড ফিটনেস জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, যাঁরা অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত ব্যায়াম করার সুযোগ পান না, তাঁরা যদি প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটা ধরে মাত্র চার মিনিট অত্যন্ত তীব্র ও পরিকল্পিত শারীরিক পরিশ্রম বা শর্ট বাউন্স ওয়ার্কআউট করতে পারেন, তবে তাঁদের বিপাকীয় হার বা মেটাবলিজম অভাবনীয়ভাবে উন্নত হয়। এই গবেষণার মূল ভিত্তি হলো ‘হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং’ (HIIT)-এর একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত রূপ। গবেষকরা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বয়সের মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, এই স্বল্পস্থায়ী কিন্তু উচ্চ তীব্রতার শরীরচর্চা শরীরের ইনসুলিন সেন্সিভিটি বা সংবেদনশীলতা দ্রুত বৃদ্ধি করে। এর ফলে শরীরের কোষগুলি রক্তে থাকা গ্লুকোজকে সঠিকভাবে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৪ মিনিটের ব্যায়ামে মূলত এমন কিছু মুভমেন্ট বা কার্ডিও এক্সারসাইজ অন্তর্ভুক্ত থাকে যা শরীরের মেটাবলিক রেটকে একঝটকায় শিখরে পৌঁছে দেয়। এর মধ্যে দ্রুত গতিতে স্কোয়াট, জাম্পিং জ্যাক কিংবা স্প্রিন্ট জাতীয় সংক্ষিপ্ত শারীরিক কসরত থাকতে পারে, যা হৃদস্পন্দনকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, যাঁদের ইতিমধ্যেই ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা রয়েছে, তাঁরা এই ধরনের উচ্চ তীব্রতার ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই যেন তাঁদের নিজ নিজ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেন। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার যুগে দাঁড়িয়ে দিনে কেবল ২৪০ সেকেন্ডের এই সামান্য বিনিয়োগ যে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।