দিনে ১০ মিনিটের বেশি প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়? জেনেনিন কি বলছে বিশেষজ্ঞরা

দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে টয়লেটে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেকেই দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখেন। অনেক সময় তা একান্ত প্রয়োজনে করা হলেও, এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হলে শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞের মতামত
জয়পুরের অ্যাপোলো স্পেকট্রা হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট ডাঃ কামাল চেলানি জানিয়েছেন, ‘‘৫-১০ মিনিটের বেশি প্রস্রাব আটকে রাখা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখলে মূত্রাশয়ের পেশীগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি হয় না, এবং ক্রমশ নানা জটিলতা তৈরি হয়।’’

দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার ক্ষতিকর প্রভাবগুলি কী কী?

মূত্রাশয় প্রসারণ: অতিরিক্ত প্রস্রাব জমে পেশী ফেটে যেতে পারে বা কার্যকারিতা হারাতে পারে।

ব্যথা ও অস্বস্তি: পেলভিক অঞ্চলে চাপ ও ব্যথা হতে পারে, যা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার রূপ নেয়।

ইউরিনারি ইনফেকশন (UTI): বারবার আটকে রাখলে প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যার ফলে সংক্রমণ হয়।

কিডনিতে পাথর: প্রস্রাবে খনিজ জমে গেলে তা কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে।

জ্বালা ও রক্তপাত: প্রস্রাব করার সময় জ্বালা, দুর্গন্ধ ও কখনও রক্ত আসতে পারে।

কীভাবে মূত্রাশয়কে সুস্থ রাখা যায়?

তাগিদ পেলে সঙ্গে সঙ্গে টয়লেটে যান, কখনই দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখবেন না।

প্রতিদিন অন্তত ৬–৮ গ্লাস জল খান, শরীর হাইড্রেটেড থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে।

নিয়মিত প্রস্রাব করুন—দিনে অন্তত ৬–৭ বার।

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কারণ এগুলিও মূত্রাশয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিশেষ সতর্কবার্তা:
মূত্রাশয় সাধারণত ৩০০–৫০০ মিলি প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে। ৮–৯ ঘণ্টায় এটি পূর্ণ হয়, কিন্তু প্রথম তাগিদ পাওয়ার পর ১৫–২০ মিনিটের বেশি আটকে রাখা উচিত নয়। বারবার এই অভ্যাস করলে কিডনি এবং মূত্রাশয় স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্যই সম্পদ—তাই ছোট অভ্যাসের অবহেলা থেকে বড় বিপদের আশঙ্কা। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।