স্বাধীনতা সংগ্রামীর ‘আহুতি’তে সেজে উঠল সুরুচি সংঘ! ইতিহাসের পথে হেঁটে চলুন এই পুজো মণ্ডপে, ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা

কলকাতার দুর্গাপূজা নিছকই এক ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ভক্তি, শিল্প ও সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন। মহানগরীর এই উৎসবে প্রতি বছরই এক নতুন ভাবনা ও বার্তা নিয়ে হাজির হয় বিভিন্ন পুজো কমিটি। এবারের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিউ আলিপুরের বিখ্যাত সুরুচি সঙ্ঘ, যারা তাদের ৭২তম বর্ষে এক গভীর দেশপ্রেমমূলক থিম নিয়ে এসেছে— যার নাম ‘আহুতি’।
স্বাধীনতা সংগ্রামের বিস্মৃত অধ্যায় মণ্ডপে
সুরুচি সঙ্ঘের এই বছরের থিমটি উৎসর্গ করা হয়েছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার যে সকল বীরেরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই বিস্মৃত নায়কদের প্রতি। ‘আহুতি’ প্যান্ডেলটি আসলে দেশের জন্য জীবন দেওয়া বাংলার বিপ্লবীদের প্রতি এক সুগভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
মণ্ডপের ভেতরের দেওয়াল জুড়ে প্লাস্টার অফ প্যারিসে নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই সংগ্রামীদের মুখাবয়ব। উদ্যোক্তারা চেয়েছেন, প্রত্যেক দর্শনার্থী যখন দেবীর আরাধনা করবেন, তার পাশাপাশি যেন একবার হলেও ইতিহাসের সেই গৌরবময় অধ্যায়টির মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন।
সুরুচির বার্তা: আজকের প্রজন্মকে ইতিহাস বোঝানো
সুরুচি সঙ্ঘের দুর্গাপূজা কমিটির সদস্য সৌম্য সরকার ANI-এর সঙ্গে কথা বলার সময় এই থিমের পেছনের ভাবনাটি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই প্রত্যেক শিশু, প্রত্যেক বয়স্ক, প্রত্যেক তরুণ যারা এখানে আসবেন, তারা এই ইতিহাসটা বুঝুক— এমন এক ইতিহাস যা আমাদের এক সমৃদ্ধ সংস্কৃতি দিয়েছে এবং যা আমাদের গর্বিত করে।”
তিনি আরও যোগ করেন, ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন উপড়ে ফেলতে বাঙালির ভূমিকা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা যেন মানুষ ভুলে না যায়। এই পুজোর মাধ্যমেই তাঁরা সেই সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
‘অনুশীলন সমিতি’-র বিপ্লবীদের বিশেষ শ্রদ্ধা
‘আহুতি’ থিমটি বিশেষভাবে আলোকপাত করেছে ‘অনুশীলন সমিতি’-র সদস্যদের অবদানের উপর। ১৯০২ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যদিও বাইরে থেকে এটিকে একটি ফিটনেস ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসাবে দেখানো হতো। এই সমিতির বিপ্লবীদের প্রতিই সুরুচি সঙ্ঘের এই বিশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজোয় জনস্রোত
সুরুচি সংঘের পুজো রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ বিশ্বাসের পুজো হিসেবেই পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই পুজোর উদ্বোধন করেছেন। ফলে মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং গভীর দেশাত্মবোধক থিম— সব মিলিয়ে প্রতি বছরই এই মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় হয়। এই বছরও ইতিহাসের টানে মণ্ডপমুখী হয়েছে সাধারণ মানুষ। দেবী দুর্গা মহিষাসুরের উপর বিজয় লাভ করে যেমন মর্ত্যে তাঁর ভক্তদের আশীর্বাদ করতে আসেন, ঠিক তেমনই এই মণ্ডপ যেন বাংলার অতীত গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে ফিরে এসেছে।