‘মহব্বতের দোকান’ নাকি দুর্নীতির কারখানা? কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ফায়ার বিজেপি সাংসদ!

ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) তারকা সাংসদ তথা প্রবীণ নেত্রী বাঁসুরি স্বরাজ মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। কংগ্রেসের জনপ্রিয় ‘মহব্বতের দোকান’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই কথিত দোকানের আড়ালে আসলে দেশজুড়ে দুর্নীতির রমরমা কারবার চলছে। দেশের একাধিক রাজ্যে চাকরিরপ্রার্থী মেধা ও তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার জন্য সরাসরি কংগ্রেস নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাঁসুরি স্বরাজ বলেন, একদিকে রাহুল গান্ধী বেকারত্ব ও যুবকদের অধিকার নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, অথচ অন্যদিকে তাঁর দলেরই শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মীরা দেশের পড়ুয়াদের কেরিয়ারের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলছেন। এই দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কংগ্রেস শাসিত বা অতীতে ক্ষমতায় থাকা রাজ্যগুলিতে যেভাবে একের পর এক নিয়োগ দুর্নীতি ও পেপার লিকের ঘটনা ঘটেছে, তাতে রাহুল গান্ধীর নীরবতা প্রমাণ করে যে এই দুর্নীতিগুলো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে।
নিজের অভিযোগের সপক্ষে মূলত তিনটি বড় কেলেঙ্কারির কথা তুলে ধরেছেন বিজেপি সাংসদ। প্রথমত, উত্তরাখণ্ডের ভিলেজ পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার (VPDO) নিয়োগ দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াতের পূর্বতন ও বর্তমান ব্যক্তিগত সচিবের (PA) বাড়িতে হানা দেয়, তখন আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পত্তির পাহাড় উদ্ধার হয়। দ্বিতীয়ত, ছত্তিশগড় পাবলিক সার্ভিস কমিশন (CGPSC) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের এক প্রাক্তন ওএসডি (OSD)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তৃতীয়ত, হিমাচল প্রদেশে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার নামে এক প্রবীণ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে কাটমানি চাওয়ার গুরুতর অভিযোগের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
বাঁসুরি স্বরাজের প্রশ্ন, যখন খোদ কংগ্রেস দলের নেতাকর্মী ও সহযোগীরা সরাসরি নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং পেপার লিক কাণ্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন, তখন দলের হাইকম্যান্ড জনসমক্ষে মুখ বন্ধ করে থাকে কেন? যুব সমাজের বেকারত্ব নিয়ে রাজনীতি করার অধিকার কংগ্রেসের নেই, কারণ তাদের নিজেদের ঘরেই দুর্নীতির পাহাড় জমে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।