“জাতীয় দলের জার্সি পেতে আর ছুটিনি!” দীর্ঘ ৪ বছর পর ফিরে ফেস টু ফেস মুখ খুললেন পেসার ভুবনেশ্বর কুমার

দীর্ঘ চার বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল স্রোত থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন তিনি। তবে এত দীর্ঘ ও কঠিন সময়েও জাতীয় দলে কামব্যাকের আশা আঁকড়ে ধরে বসে থাকেননি তারকা পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। বরং ব্যক্তিগত হতাশা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়তি প্রত্যাশা না রেখে শুধুমাত্র নিজের কাজ করে যাওয়া এবং বর্তমানের ওপর ফোকাস করাই তাঁকে এই দুঃসময় পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে।

সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (BCCI) পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার শেয়ার করা হয়েছে। সেই ভিডিওতেই নিজের দীর্ঘ চড়াই-উতরাই ভরা প্রত্যাবর্তনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন অভিজ্ঞ এই পেসার। দীর্ঘ চার বছর পর অবশেষে ভারতের জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন ভুবনেশ্বর। সম্প্রতি চোট পাওয়া তরুণ পেসার অর্শদীপ সিংয়ের পরিবর্তে বেঙ্গালুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে সেই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এর পরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও মাঠে নেমে নিজের অভিজ্ঞতার ছাপ রেখেছেন তিনি। বোর্ডের নিজস্ব মিডিয়া টিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভুবনেশ্বর কুমার জানান, বিগত তিন-চার বছরের দীর্ঘ যাত্রায় তাঁর মানসিকতার মূল মন্ত্র একটাই ছিল—আগামীর কথা না ভেবে কেবল বর্তমানের ওপর ১০০ শতাংশ মনোযোগ দেওয়া। ভবিষ্যতে কী হবে বা দল তাঁকে রাখবে কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে নিজের প্রক্রিয়া এবং পরিশ্রমের ওপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রেখেছেন তিনি। ভুবনেশ্বরের স্পষ্ট কথা, “আমি নিজের কাছে কখনো কোনো অবাস্তব প্রত্যাশা রাখি না। গত তিন-চার বছর ধরে আমার ক্রিকেট কেরিয়ার এভাবেই এগিয়েছে। কোনো বাড়তি প্রত্যাশা নেই, শুধু নিজের কাজটুকু সততার সঙ্গে করে যাওয়া। আমরা মুখে সবাই বর্তমানের মধ্যে বাঁচার কথা বলি, কিন্তু মানসিকভাবে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে ভালোবাসি। গত কয়েক বছর ধরে আমি আক্ষরিক অর্থেই এই মানসিকতা নিজের মধ্যে ধরে রেখেছি।”

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হলেও এই কঠিন সময়টাকে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষা হিসেবে দেখছেন। ভুবনেশ্বর বলেন, “আমি খুব ভালোভাবেই জানতাম যে এই মুহূর্তে আমি দেশের হয়ে মাঠে নামছি না। কিন্তু ওই চার বছরের বিরতিতে আমি ব্যক্তিগত জীবনে যা যা শিখেছি এবং একজন মানুষ হিসেবে আমার মধ্যে যে মানসিক পরিণতিবোধ ও পরিপক্বতা এসেছে, সেটাই আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে বাস্তবসম্মতভাবে বর্তমানের মধ্যে বাঁচতে হয়।”

সবচেয়ে বড় কথা, চার বছর ধরে ভারতীয় দলের অধরা জার্সি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি অন্ধের মতো ছটফট করেননি বা মরিয়া হয়ে ছোটেননি। নিজের সেই মানসিক অবস্থা তুলে ধরে ভুবি বলেন, “সত্যি কথা বলতে, এই চার বছর ধরে আমি কখনোই ভারতীয় দলের জার্সির পেছনে হন্যে হয়ে ছুটিনি। মাঝখানের এই দীর্ঘ সময়টা ঠিক কখন চোখের পলকে কেটে গেল, আমি টেরই পাইনি। এই সময়ের মধ্যে আমার চিন্তাভাবনা ও কেরিয়ারের দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে। আর আমার এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলের ভূমিকাও ছিল অনস্বীকার্য।”