৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ‘কুরকূট’! কী এই বুনো পিঁপড়ে? যার ঝোল-চাটনি খাচ্ছে জঙ্গলমহল

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জঙ্গলমহলের বিভিন্ন হাট-বাজারে শুরু হয়েছে বুনো পিঁপড়ে বা ‘কুরকূট’-এর আমদানি। মাত্র ২০০ টাকা কেজি দরে এই বিশেষ পিঁপড়ে বিক্রি হচ্ছে। তবে মকর পরবের সময় এর দাম ৭০০ টাকা কেজি পর্যন্ত পৌঁছয়। স্থানীয় ভাষায় এই লাল পিঁপড়ের নাম ‘কুরকূট’। এর পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহার জানলে আপনি অবাক হবেন।

কী এই কুরকূট এবং এর ব্যবহার:

কুরকূট হলো এক ধরনের বুনো লাল পিঁপড়ে, যারা গভীর শাল জঙ্গলে বসবাস করে। এরা মুখের লালা ব্যবহার করে পাতাগুলোকে পুটুলি করে বাসা তৈরি করে। আগে আম, জাম, কাঁঠাল গাছেও এদের দেখা যেত, কিন্তু রাসায়নিকের কারণে গ্রামাঞ্চলে এদের উপস্থিতি কমে গেছে।

জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে এই পিঁপড়ের ঝোল বা চাটনি একটি অত্যন্ত উপাদেয় খাদ্য।

স্বাস্থ্য উপকারিতা: অনেকের মতে, জ্বর, সর্দি-কাশি এবং অরুচি দূর করতে এই পিঁপড়ের ঝোল বা চাটনির জুড়ি মেলা ভার। করোনা মহামারীর সময়ে এর চাহিদা এবং প্রচার বেড়েছিল।

মৎস্যজীবীদের ব্যবহার: পিঁপড়েগুলো সরাসরি না খেয়ে মাছের চারা বা টোপ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। মৎস্যজীবীরা মাছ ধরার জন্য এদের কিনে নিয়ে যান।

বাজার ও দামের প্রবণতা:

বাঁকুড়া এবং পার্শ্ববর্তী ঝাড়গ্রাম জেলার প্রত্যেকটি হাটে এই পিঁপড়ে বিক্রি হয়। পিঁপড়ের সবচেয়ে বড় বাজার হল বাঁকুড়ার খাতড়া এবং সারেঙ্গা।

দাম: বর্তমানে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও, বর্ষাকালে দাম থাকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। মকর সংক্রান্তির সময় চাহিদা বাড়লে এর দাম ৭০০ টাকা কেজি পর্যন্ত ওঠে।

উপস্থিত অনেকেই জানিয়েছেন, এই পিঁপড়ের টক স্বাদের ঝোল এবং চাটনি অত্যন্ত মুখরোচক এবং শীতের শুরুতে সর্দি-জ্বরে ভুগতে থাকা মানুষের কাছে এর চাহিদা যথেষ্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy