পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়তেই আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার এই খসড়া তালিকা প্রকাশের পর শুভেন্দুর দাবি, এসআইআর (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ভোটের যে ব্যবধান ছিল, তা কার্যত মুছে গিয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়াই ২০২৬-এর নির্বাচনে পদ্ম ফোটানোর চাবিকাঠি হতে চলেছে বলে মনে করছেন তিনি।
শুভেন্দুর ভোটের পাটিগণিত: বিরোধী দলনেতা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে একটি চমকপ্রদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
-
২০২১-এর হিসাব: বিজেপি পেয়েছিল ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ২৭ হাজার ভোট। তৃণমূল পেয়েছিল ২ কোটি ৭৫ লক্ষের আশেপাশে। অর্থাৎ দুই দলের সরাসরি ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ৪১ লক্ষের সামান্য বেশি।
-
শুভেন্দুর দাবি: তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মূল লড়াইয়ের যে গ্যাপ (বাম-কংগ্রেসের ভোট বাদ দিয়ে), তা ছিল প্রায় ২১ লক্ষ।
-
নয়া সমীকরণ: বর্তমানে এসআইআর-এর ফলে ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। শুভেন্দুর দাবি, এই বাদ পড়া নামের অধিকাংশই ছিল শাসক দলের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ বা ভুয়ো ভোটার। ফলে ৪১ লক্ষের ব্যবধান মেটানো এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
১৪ ফেব্রুয়ারির দিকে নজর: শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এটি কেবল খসড়া তালিকা। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি যখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, তখন নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যা আরও বাড়বে। তাঁর কথায়, “আগে যা বলেছিলাম তার থেকেও বেশি নাম বাদ যাবে। তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোটের আর কোনও ব্যবধানই থাকছে না।”
সিপিএম-কংগ্রেসকে কটাক্ষ: বক্তব্যের মাঝেই বাম ও কংগ্রেসকে বিঁধতে ছাড়েননি নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তাঁর মতে, সিপিএম ও কংগ্রেস মূলত ভোট কাটার কাজ করে। বাংলার আসল লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপির, আর সেই লড়াইয়ে ভুয়ো ভোটারের দেওয়াল ভেঙে পড়েছে বলেই তিনি দাবি করেন।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই গাণিতিক দাবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি সত্যিই বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ ভোটারের বড় অংশ শাসক দলের সমর্থক বা ‘ভুতুড়ে’ ভোটার হয়ে থাকে, তবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।