সোনার দামের ক্রমাগত ওঠানামার মধ্যে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC) থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন মধ্যবিত্তের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। WGC জানিয়েছে যে ২০২৬ সালে সোনার দাম বর্তমান স্তর থেকে ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা বিয়ের মরশুমের আগে ক্রেতাদের জন্য এক বড় ধাক্কা।
২০২৫ সালে ৫৩% দাম বৃদ্ধি কেন?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মার্কিন শুল্ক (US tariffs) এবং অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সোনার চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছিল। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে মানুষ সোনায় প্রচুর বিনিয়োগ করায় এর দাম সেই বছর ৫৩% বৃদ্ধি পেয়েছিল।
প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে?
WGC রিপোর্টে বলা হয়েছে, একাধিক কারণ একসঙ্গে সোনার দামকে আরও তীব্রভাবে বাড়তে সাহায্য করবে:
পতনশীল ফলন (Falling Yields): বন্ডের ফলন কমে আসা।
বর্ধিত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা।
নিরাপত্তার দিকে পরিবর্তন: বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তার জন্য সোনার দিকে ঝুঁকে পড়া।
এই পরিস্থিতিতে WGC পূর্বাভাস দিচ্ছে, ২০২৬ সালে সোনার দাম বর্তমান স্তর থেকে ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
সোনার ETF-এ রেকর্ড ইন্ট্রাডে ফ্লো
বিনিয়োগ হিসাবে সোনার উচ্চ চাহিদা থাকবে, যা গয়না এবং প্রযুক্তির মতো অন্যান্য বাজারের দুর্বলতা পূরণ করবে। বিশেষভাবে, গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF) এর মাধ্যমে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে।
WCG-এর তথ্য অনুসারে, CY25 সালে বিশ্বব্যাপী সোনার ইটিএফ-গুলিতে এখন পর্যন্ত ৭৭ বিলিয়ন ডলারের ইন্ট্রাডে ফ্লো দেখা গেছে, যার ফলে তাদের মজুদ ৭০০ টনেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে মোট সোনার ইটিএফ-এর মজুদ প্রায় ৮৫০ টন বৃদ্ধি পাবে। তবে এই সংখ্যাটি পূর্ববর্তী সোনার চক্রের অর্ধেকেরও কম, যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ রেখে গেছে।
মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা
এই পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) সম্ভবত বিরাজ করবে, যা বিশ্বব্যাপী কার্যকলাপ এবং প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী পথে ঠেলে দেবে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, ফেড (US Fed) ২০২৬ সালে সুদের হার ধরে রাখতে বা বাড়াতে বাধ্য হবে।
বিপরীতক্রমে, যদি পরিস্থিতির অবনতি হয়, তবে ২০২৬ সালে সোনার দাম ৫% থেকে ২০% কমতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।