দেশের অভ্যন্তরে এবং সীমান্তে—উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) সংলগ্ন এলাকায় ৬৯টি জঙ্গি লঞ্চ প্যাডে প্রায় ১২০ জন জঙ্গি ঘাঁটি গেড়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)। একই সঙ্গে, দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
LoC-তে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পুনরাবৃত্তির হুঁশিয়ারি
জম্মু ও কাশ্মীরের দায়িত্বে থাকা BSF আইজি অশোক যাদব জানিয়েছেন, বিএসএফের গোয়েন্দা শাখা (জি ব্রাঞ্চ) ক্রমাগত এই জঙ্গি ঘাঁটিগুলির উপর নজর রাখছে। জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্পষ্ট হুঁশিয়ারি: BSF স্পষ্ট করেছে যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পুনরাবৃত্তি করা হবে। প্রথম পর্বে এই অপারেশনের পরই জঙ্গিরা LoC-র কাছ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল।
অনুপ্রবেশ ব্যর্থ: সরকারি সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে BSF এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে অনুপ্রবেশের চারটি বড় চেষ্টা ব্যর্থ করেছে এবং আটজন জঙ্গিকে হত্যা করেছে।
গোয়েন্দা ইউনিটের ভূমিকা (জি ব্রাঞ্চ): BSF-এর জি ব্রাঞ্চ হল সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত একটি গোয়েন্দা ইউনিট, যা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির প্রতিটি গতিবিধি, প্রশিক্ষণ শিবির, লঞ্চিং পয়েন্ট এবং ক্যাডারদের গতিবিধির উপর রিয়েল-টাইম মনিটরিং করে।
লঞ্চপ্যাডের সক্রিয়তা: BSF IG-এর মতে, পাকিস্তান সীমান্তের ৬৯টি লঞ্চপ্যাডের মধ্যে বেশিরভাগই কাশ্মীরের সামনে বিস্তৃত LoC-র সেই অংশে সক্রিয় রয়েছে যেখানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেশি হয়।
দিল্লিতে লালকেল্লার নিরাপত্তায় নয়া কৌশল
এদিকে, লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে, সেই সতর্কতা থেকেই দিল্লির নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে।
ক্যামেরা বৃদ্ধি: লালকেল্লা-সহ দিল্লির অনেক জায়গায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নজরদারির জন্য আরও ১২০টি নতুন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো লালকেল্লার ভেতরে ও বাইরে বসানো হবে।
কর্মী প্রশিক্ষণ: পার্কিং গ্রাউন্ডের কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
অবৈধ উচ্ছেদ: লালকেল্লার কাছে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
BSF IG অশোক যাদব স্পষ্ট করেছেন যে সীমান্তে প্রযুক্তি, ড্রোন নজরদারি, সেন্সর এবং নাইট-ভিশন মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে, যা যৌথভাবে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রতিটি চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত রাখছে।