বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তার চাহিদা মেটাতে সৌরশক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে এবার বড়সড় উদ্যোগ নিল ভারতীয় রেলওয়ের পূর্ব উপকূলীয় রেলওয়ে (East Coast Railway / ECoR)। রেল যাত্রীদের বিস্তৃত পরিসরে উচ্চমানের নিরাপত্তা দিতে ইকো রেলওয়ে এবার সৌরশক্তি দ্বারা চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক সার্ভিলেন্স ড্রোনের ব্যবহার শুরু করেছে।
বিদ্যুৎবিহীন এলাকাতেও নির্বিঘ্ন নজরদারি
ইস্ট কোস্ট রেলওয়ে জোনের এমন অনেক প্রত্যন্ত এলাকা রয়েছে যেখানে বিদ্যুতের নিয়মিত সরবরাহ হয় না। এই সমস্ত এলাকায় নির্বিঘ্নে নজরদারি চালানোর জন্য এই নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। রেলের ৩টি সংবেদনশীল ডিভিশন— খুরদা রোড, ওয়ালটেয়ার ও সম্বলপুরে এই ব্যবস্থার সূচনা করা হয়েছে।
-
উদ্দেশ্য: উচ্চমানের যাত্রীসুরক্ষার সঙ্গে রেলের কামরায় অনুপ্রবেশকারী ও দুষ্কৃতিদের রুখতে, রেলের অধীনস্থ প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি চালাতে এবং দীর্ঘ রেলযাত্রায় একদম সেই মুহূর্তের গতিবিধি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এই যন্ত্রগুলি কাজে লাগবে।
-
এছাড়াও রেলের সম্পত্তি রক্ষা এবং কর্মচারিদের উন্নততর সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ড্রোন ও ক্যামেরার সংখ্যা
নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে ইকো রেলওয়ে স্থলভাগের পাশাপাশি আকাশপথকেও ব্যবহার করছে।
-
সিসিটিভি ক্যামেরা: ইতিমধ্যে ওয়ালটেয়ার ডিভিশনে ১১৩টি, খুরদা রোডে ৬টি এবং সম্বলপুরে ৪৬টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলি ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের ভিড় সামলাতে এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সহায়ক হবে।
-
অ্যাডভান্সড ড্রোন: স্থলভাগের নিরাপত্তার পাশাপাশি আকাশপথকে কাজে লাগাতে ৫টি অ্যাডভান্সড সার্ভিলেন্স ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে খুরদা ও ওয়ালটেয়ারে ২টি করে এবং সম্বলপুরে ১টি ড্রোন নজরদারির কাজ চালাচ্ছে।
রেল আধিকারিকরা আশা করছেন, সোলার ক্যামেরা ও ড্রোন—এই দুই পদ্ধতির মাধ্যমে উচ্চমানের ও নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান করা সম্ভব হবে।