লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হওয়া নজিরবিহীন ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার পর এবার রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে ‘অবরোধের চেষ্টা’র অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজক শতদ্রু দত্ত গ্রেফতার হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যুবভারতীতে পৌঁছলেও মাঠে প্রবেশ করতে পারেননি রাজ্যপাল।
আলো নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল বোস অভিযোগ করেন, তিনি যুবভারতীতে পৌঁছনোর পরই গেট খোলা হয়নি, এবং তাঁকে বাইরে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তাঁর সবচেয়ে বড় অভিযোগ, “আমি এখানে আসার পর আলো নিভিয়ে দেওয়া হল।”
-
সাংবিধানিক প্রধানকে আটকানো: রাজ্যপাল বলেন, “আমার এডিসিকে বলা হয়েছিল ৩ নম্বর গেটে আসতে। আমি সেই রকমই এসেছি। সাংবিধানিক প্রধানকে আটকানোর চেষ্টা।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলা কি এভাবে গভর্নরকে ট্রিট করে?”
-
ব্যাখ্যা দাবি: তিনি জানান, সবাইকে আগাম জানিয়ে আসার পরেও কেন কেউ দরজা খোলেননি, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেন তিনি।
কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ ও রিপোর্ট তৈরি
এই অপমানজনক ঘটনায় রাজ্যপাল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “গভর্নর কোনো রাবার স্ট্যাম্প নয়। আমার রিপোর্ট তৈরি আছে।”
তিনি আরও বলেন, “খেলাকে ব্যবসায় ব্যবহার করা হচ্ছে।” এই সমস্ত অব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তিনি ঘোষণা করেন, “কাল আমি আবার আসব।”
উল্লেখ্য, শনিবার মেসিকে দেখতে না পেয়ে দর্শকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ভাঙচুর শুরু করেন। অভিযোগ, প্রায় ৭০-৮০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি মেসিকে ঘিরে থাকায় সাধারণ দর্শক তাঁকে দেখতে পাননি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে দেখে উদ্যোক্তারা মেসিকে তড়িঘড়ি স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেন। এবার সেই অব্যবস্থার তদন্ত করতে এসে খোদ রাজ্যপালকেই বাধার মুখে পড়তে হলো।