বর্তমানে যখন শিশুরা মোবাইলে আসক্ত, তখন দুর্গাপুরের অণ্ডাল থানার শ্রীরামপুর গ্রামের ১০ বছরের লোকেশ ঘোষের নজরকাড়া প্রতিভা মুগ্ধ করবে সকলকে। মাত্র ৭ বছর বয়স থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও এবং ইউটিউব দেখে সে নিপুণ হাতে মাটির প্রতিমা তৈরি করছে।
বিরল প্রতিভা ও সৃষ্টিশীলতা
-
স্বশিক্ষিত শিল্পী: লোকেশের দাবি, সে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শুধু মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখে প্রতিমা তৈরির কৌশল শিখেছে।
-
কর্মকাণ্ড: সামনেই সরস্বতী পুজো। লোকেশ বর্তমানে রাস্তার পাশেই তার কাজ চালাচ্ছে। সে ছোট দেড় ফুট থেকে প্রায় ৩-৪ ফুট উচ্চতার ১০টি সরস্বতীর মূর্তি গড়ে তুলছে। নিজের স্কুলের সরস্বতী প্রতিমাও সে নিজেই গড়ছে।
-
অন্যান্য প্রতিমা: সরস্বতী ছাড়াও কালী, দুর্গা, রাধাকৃষ্ণের মূর্তি-সহ সমস্ত দেবদেবীর প্রতিমা সে নিপুণতার সঙ্গে তৈরি করতে পারে।
-
আঁকা ও মেধা: শান্ত, নিরীহ স্বভাবের লোকেশ ছবি আঁকাতেও খুব দক্ষ। সে যেকোনো অঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই প্রথম স্থান অধিকার করে। পড়াশোনাতেও সে বেশ মেধাবী।
কীর্তনেও সমান পারদর্শী
লোকেশ শুধু প্রতিমা গড়েই থেমে থাকেনি। মূর্তি গড়ার সময় সে আপন মনে শ্রীকৃষ্ণের কীর্তন গান গায়। যেমন মধুর তার কন্ঠস্বর, তেমনই নিখুঁত তার হাতের কাজ। তার জীবনের শখ হলো একজন ভালো কীর্তনিয়া হওয়া। বর্তমানে সে বিভিন্ন মঞ্চে রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে শ্রীকৃষ্ণলীলা কীর্তন পরিবেশন করে।
পরিবারের সহযোগিতা
লোকেশ ঘোষের বাবা জীবন ঘোষ দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের ঠিকা শ্রমিক এবং মা অঞ্জনাদেবী গৃহবধূ। তাঁদের দুই মেয়ের বিবাহ হয়ে গিয়েছে। লোকেশই তাঁদের একমাত্র পুত্র। মাত্র ১০ বছর বয়সে লোকেশ নিজের ভবিষ্যৎ নিজে গড়ে তুলছে। প্রতিমা গড়ে যে পারিশ্রমিক পায়, তা সে সযত্নে সঞ্চয় করে। তার মনের ইচ্ছে পূরণ করতে বাবা-মাসহ পরিবারের সকলে তাকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করেন।
এই বিরল প্রতিভার অধিকারী হওয়ায় স্কুলসহ গোটা এলাকায় ছোট্ট লোকেশ এখন সকলের নয়নের মণি হয়ে উঠেছে।