বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির (Lionel Messi) সফরকে ঘিরে কলকাতা যেমন দেখেছিল বিশৃঙ্খলা, ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা গেল হায়দরাবাদে। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে মেসি শুধু স্বচ্ছন্দই ছিলেন না, বরং তাঁর মুখে ছিল চওড়া হাসি। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতার মতো শহর যেখানে মেগা ইভেন্ট সামলাতে ব্যর্থ হলো, সেখানে শেষ মুহূর্তে সংযোজিত নিজামের শহর হায়দরাবাদ কীভাবে ভিড় সামাল দিয়ে সফল হলো?
মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে বল, মেসির গোলে উচ্ছ্বাস
সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট নাগাদ হায়দরাবাদে পৌঁছন মেসি, সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি’পল। তাঁরা ভিআইপি বক্স থেকে প্রদর্শনী ম্যাচ দেখার পর নামলেন মাঠে। সেখানে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। জার্সি পরে মাঠে নেমে মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি মেসিকে বল পাস করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। কিন্তু ফুটবল রাজপুত্র অক্লেশে গোল দিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন।
এদিকে, কলকাতাতেও মেসির ‘গোট ট্যুর’-এ (GOAT Tour) আসার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু যুবভারতীতে ভাঙচুর ও তাণ্ডব শুরু হওয়ায় মেসি নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়লে মুখ্যমন্ত্রীকে মাঝপথেই গাড়ি ঘুরিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। এই ঘটনায় স্পষ্ট, আয়োজন সামলানোয় কলকাতার কাছে হার মানল হায়দরাবাদ।
রাহুল গান্ধীর সৌজন্য, কলকাতায় সেলফির ভিড়
কলকাতা থেকে হায়দরাবাদে পৌঁছনোর পরও মেসি এবং তাঁর সতীর্থদের মুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল না, বরং তাঁরা ছিলেন অনেক বেশি ফুরফুরে। কারণ, সেখানে নিরাপত্তার নামে ঘাড়ে কেউ নিঃশ্বাস ফেলছিল না।
হায়দরাবাদের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর সৌজন্য ছিল চোখে পড়ার মতো। রাহুল গান্ধী নিজে মেসির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি না করে, কচিকাঁচা এবং ফুটবল প্লেয়াররা এলে তাদের সৌজন্য দেখিয়ে জায়গা ছেড়ে দেন। এমনকি ছবির ফ্রেম থেকে নিজেও পিছিয়ে সরে দাঁড়াচ্ছিলেন।
অন্যদিকে, কলকাতায় দর্শকরা দেখেছেন, মেসিকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের সেলফি তোলার ভিড়। ১০-২০ হাজার টাকা খরচ করেও দর্শকরা যেখানে মেসির মুখ দেখতে পাননি, সেখানে এই সেলফি-উন্মাদনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছিল। হায়দরাবাদে রাহুল গান্ধীর দেখানো সৌজন্য তাই সর্বত্র সাধুবাদ পাচ্ছে।
দর্শকদের উল্লাস বনাম বোতল-চেয়ার
হায়দরাবাদের স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৪০ হাজার দর্শক মেসি আবেগে ভেসেছেন। মেসি যখন গ্যালারির দিকে শট মারেন, তখন দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা চরমে ওঠে। গোটা স্টেডিয়াম হাততালি আর চিৎকারে ফেটে পড়ে। কিন্তু কলকাতায় এই দৃশ্য মেসিকে দেখতে হয়নি। সেখানে আর্জেন্টিনার তারকাকে মাঠ ছাড়ার সময় দেখতে হয়েছিল দর্শকাসন থেকে উড়ে আসা বোতল ও চেয়ার!
এখানে উল্লেখযোগ্য, কলকাতা বা মুম্বইয়ের মতো হায়দরাবাদ সফর আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না। শেষ মুহূর্তে নাম সংযোজন করেও নিজামের শহর ভিড় সামলে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পেরেছে। আর কলকাতার সেই বিশৃঙ্খলার ছবি গোটা বিশ্বই দেখেছে।