মৃত ভোটার চিহ্নিতকরণে বিরাট নির্দেশ কমিশনের! ব্যাঙ্ক, রেশন কার্ড থেকে শ্মশান-কবরস্থানের ডেটা মেলাতে হবে

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ চলছে, কিন্তু তার মধ্যেই বিশাল সংখ্যক এনুমারেশন ফর্ম জমা না পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখনও ৫৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৪১টি ফর্ম জমা পড়েনি। এর মধ্যে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং ভুয়ো ভোটারও রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১১ ডিসেম্বর শেষ তারিখ, নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা

বিএলও’রা (BLO) গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যের প্রতিটি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করেছেন। আগামী ১১ ডিসেম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর মধ্যে ফর্ম জমা না-দিলে সংশ্লিষ্টদের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে।

মৃত ভোটার চিহ্নিতকরণে কমিশনের নির্দেশ

ফর্ম জমা না পড়ার তালিকায় থাকা মৃত ভোটারদের চিহ্নিত করতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এসআইআর পর্যবেক্ষক (SIR Observer) এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। ইআরও’দের (ERO) স্পষ্ট নির্দেশ: যেকোনো সূত্র মারফত মৃত ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করে, সেগুলিকে কমিশনের ডেটাবেসে ‘dead marked’ হওয়া নামগুলির সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে হবে।

মৃত ভোটার বাছাই করার প্রক্রিয়া:

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, মৃত ভোটারের সংখ্যা যাচাই করার সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র খতিয়ে দেখতে হবে:

মৃত্যুর নথি: গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভায় নথিভুক্ত মৃত্যুর তালিকা।

বিমা ও ব্যাঙ্ক তথ্য: এলআইসি, ব্যাঙ্ক, কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত মৃতদের তথ্য।

সরকারি প্রকল্পের ডেটাবেস: সমব্যাথী, বার্ধক্যভাতা, কৃষক প্রকল্প এবং অন্যান্য সরকারি নথিতে থাকা মৃত্যুর তথ্য।

রেশন কার্ডের তথ্য: ফুড ডিপার্টমেন্টে জমা হওয়া রেশন কার্ডের তথ্য।

দাহস্থলের রেকর্ড: শ্মশান, কবরস্থান, দাহস্থলের রেকর্ড তথ্য।

পারিবারিক পেনশনের তথ্য।

ভুয়ো ভোটার ধরতে নতুন সফটওয়্যার

ভুয়ো ভোটারদের ধরতে কমিশন ‘Demographic Similar Entries’ নামক এক নতুন সফটওয়্যার নিয়ে এসেছে।

আপাতত নির্দিষ্ট বিধানসভা এলাকার দায়িত্বে থাকা ERO-রাই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারছেন।

তবে আগামী দু’দিনের মধ্যে প্রত্যেক জেলার DEO-রাও এই সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকরাও রাজ্যজুড়ে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করতে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

এসআইআর কাজ শেষে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এসআইআর-এর কাজে ত্রুটি নিয়ে রিপোর্ট

এদিকে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ (WBEW) এসআইআর সংক্রান্ত ত্রুটিগুলি তুলে ধরে কমিশনে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ:

অসঙ্গতিপূর্ণ নিয়ম: এসআইআর-এর বর্তমান নিয়মে পরিবারের কারও নাম তালিকায় রয়েছে কি না, তা ভোটারদের দেখাতে হচ্ছে, যার কোনো যুক্তি কমিশন দেয়নি।

স্থানান্তরিত ভোটারদের সমস্যা: কোনও ভোটার অন্যত্র স্থানান্তরিত হলে তাঁর ফর্ম পুরনো ঠিকানাতেই পাঠানো হচ্ছে। ফর্ম জমা না-দিলে তালিকায় তাঁকে স্থানান্তরিত হিসাবে চিহ্নিত করা হতে পারে বা মুছে ফেলা হতে পারে, অথচ নতুন বাসস্থান নথিভুক্ত করার কোনও নিয়ম নেই।

ত্রুটি সংশোধনে বাধা: 2002 সালের প্রক্রিয়ায় নাম মুছে গেলেও সংশোধন সম্ভব ছিল, কিন্তু 2025 সালের প্রক্রিয়ায় এমন নিয়ম নেই। এমনকি, নামের বানান ভুল কিংবা ঠিকানায় ত্রুটি থাকলেও তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy