কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন রূপ নিল রণক্ষেত্রে। ‘বঙ্কিমদা’ বিতর্ক থেকে শুরু করে ‘মিনি পাকিস্তান’ ইস্যু—তৃণমূল ও বিজেপি কাউন্সিলরদের বাদানুবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কক্ষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের একটি মন্তব্যে মেজাজ হারিয়ে সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
তর্কযুদ্ধের মূলে কী? ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীর একটি নিন্দা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধনকে বাঙালির অস্মিতায় আঘাত বলে দাবি করে তৃণমূল। এর পাল্টা দিতে গিয়ে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ আরজি কর প্রসঙ্গ এবং ফিরহাদ হাকিমের পুরনো ‘মিনি পাকিস্তান’ মন্তব্য টেনে আনেন।
ফিরহাদের মেগা চ্যালেঞ্জ: সজল ঘোষের মুখে ‘মিনি পাকিস্তান’ শব্দবন্ধ শুনেই ফেটে পড়েন মেয়র। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন বা ভিডিও দেখাতে পারেন যে আমি এই কথা বলেছি, তবে আজই সব পদ থেকে ইস্তফা দেব এবং রাজনীতি ছেড়ে দেব।” পাল্টা সজল ঘোষও দাবি করেন, তিনি এটি প্রমাণ করে দেবেন।
অধিবেশনে ধুন্ধুমার:
-
হাতাহাতি ও বাদানুবাদ: দুই পক্ষের কাউন্সিলররা একে অপরের দিকে তেড়ে যান। পরিস্থিতি সামলাতে হস্তক্ষেপ করতে হয় চেয়ারপার্সন মালা রায়কে।
-
নীতীশ কুমার প্রসঙ্গ: বিহারের হিজাব বিতর্ক টেনে ফিরহাদ হাকিম বিজেপিকে ‘অসৎ সঙ্গ’ বলে কটাক্ষ করেন।
-
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের খোঁচা: প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দুপক্ষকেই আক্রমণ করে বলেন, এরা মানুষের সমস্যা নিয়ে নয়, ব্যক্তিগত ঝগড়া নিয়েই ব্যস্ত।
শেষ পর্যন্ত মেয়র পারিষদ অসীম বসুকে গান শুনিয়ে অধিবেশন শান্ত করার পরামর্শ দেন চেয়ারপার্সন। তবে ‘মিনি পাকিস্তান’ বনাম ‘বঙ্কিমদা’ তরজা নিয়ে এখনও সরগরম রাজনৈতিক মহল।