২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই বাংলার রাজনীতিতে দল বদলের হিড়িক শুরু হয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে যখন তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবীরের নতুন দল গঠন এবং AIMIM-এর সক্রিয়তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে, ঠিক তখনই বড় পদক্ষেপ নিল বিজেপি। দীর্ঘদিন পর পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর শহরে গঠিত হলো বিজেপির সংখ্যালঘু কমিটি।
খড়্গপুরে শক্তি সঞ্চয় বিজেপির
শনিবার রাতে খড়্গপুর শহরের এক নম্বর মণ্ডলে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের হাত ধরে একাধিক সংখ্যালঘু মহিলা সহ বহু মানুষ বিজেপিতে যোগদান করেন। এই যোগদানের মাধ্যমে খড়্গপুর শহরের এক নম্বর মণ্ডলে নতুন করে সংখ্যালঘু কমিটি তৈরি হওয়ায় এটিকে নিজেদের ‘জমি শক্ত’ করার ক্ষেত্রে একটি আলাদা মাত্রা বলেই দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ। রাজনৈতিক মহল এই যোগদানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।
দিলীপ ঘোষের দাবি:
খড়্গপুরের প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এই এলাকার ২-৩টি ওয়ার্ডে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি রয়েছে। তিনি বলেন:
“ওই ওয়ার্ডগুলোতে আমরা ভোট পাই না, সেখানে বুথ কমিটিও ছিল না। বিএলএ (Booth Level Agent) নেই। সেখানে এবার বুথ কমিটি তৈরি হয়েছে। এসআইআর-এ (Strategic Initiative for Retention) কাজও হয়েছে। সেখান থেকে বেশ কয়েকজন যোগ দিয়েছেন। মুসলিমরাও বুঝেছে বিজেপিই বিকল্প।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই সময় সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে চর্চা বাড়ার মূল কারণ—সদ্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন এবং নতুন দল গড়ার ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, নজিরবিহীনভাবে মালদহ-মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে AIMIM-এর যোগদান বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে, তৃণমূলের দুর্গে ভাঙন ধরার জল্পনার মাঝেই খড়্গপুরে বিজেপির সংখ্যালঘু কমিটি গঠন এবং যোগদান পর্ব রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।