২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক বড়সড় সুনামি। নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক তরজা। তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আসতেই বিজেপি নেতা অমিত মালব্য দাবি করেছেন, এতদিন এই ‘ভুয়ো’ ভোটারদের ওপর ভর করেই বাংলায় রাজত্ব চালিয়েছে তৃণমূল।
বিস্ফোরক অমিত মালব্য: বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দাবি করেছেন, বাদ পড়া এই বিপুল সংখ্যক নামের মধ্যে বড় অংশই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার। তাঁর অভিযোগ, অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নাম ব্যবহার করে শাসক দল ভোট বৈতরণী পার হতো। মালব্য আরও জানান:
-
প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটার এন্ট্রি এখনও ‘আনম্যাপড’।
-
আরও ১ কোটি ৭০ লক্ষ নামের ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে।
-
বিজেপি নেতার সাফ কথা, “এই পথ এবার বন্ধ হয়েছে, প্রকৃত ভোটাররাই এবার বাংলার ভবিষ্যৎ গড়বেন।”
নির্বাচন কমিশনের খসড়া পরিসংখ্যান: কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৮,২০,৮৯৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে। যার মধ্যে:
-
২৪ লক্ষ ১৬ হাজার: মৃত ব্যক্তি।
-
১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার: স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত।
-
১২ লক্ষ ২০ হাজার: নিখোঁজ বা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
-
১ লক্ষ ৩৮ হাজার: ডুপ্লিকেট বা জাল ভোটার।
মমতার পাল্টা তোপ: বিজেপির এই অভিযোগকে অবশ্য নস্যাৎ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু থেকেই তিনি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চাইছে। এটি সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার একটি চক্রান্ত বলে তিনি মনে করেন।
ক্যালেন্ডারে নজর: বর্তমানে এসআইআর-এর দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ দাবি ও আপত্তি জানানোর কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া চলবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
সম্পাদকের বিশ্লেষণ: ভোটার তালিকা থেকে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিঃসন্দেহে ২০২৬-এর নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। যদি বিজেপির দাবি মতো এই ভোটগুলো সত্যিই শাসক দলের পক্ষে যেত, তবে নতুন তালিকা প্রকাশের পর ভোটের মেরুকরণ আমূল বদলে যেতে পারে।