ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) খসড়া তালিকা প্রকাশিত হতেই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরে প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজারের মতো নাম বাদ পড়ার পরই তিনি আট কাউন্সিলর এবং বিএলএ-টু (BLA 2)-দের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।
বৈধ ভোটারদের পাশে থাকার নির্দেশ:
সংশ্লিষ্ট বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূল নেতা সুব্রত বক্সী উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, বিশেষত যদি কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যায়, তবে হিয়ারিং-এর সময় তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে সব রকম সাহায্য করতে হবে।
-
ভবানীপুরে বাদ পড়া নাম: খসড়া তালিকা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৭৭০।
-
মুখ্যমন্ত্রীর বুথ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বুথ, মিত্র ইন্সটিউশন (২৬০ নম্বর বুথ), থেকেই বাদ পড়েছে ১২৭ জনের নাম। এর মধ্যে ১৩ জন মৃত এবং বেশিরভাগই ‘খুঁজে পাওয়া যায়নি’ বা ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত।
এই বিশাল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী এই জরুরি বৈঠক ডাকেন, যা তাঁর কেন্দ্রের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি:
এদিকে, খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, SIR-এর পর তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোটের ব্যবধান আর রইল না। তাঁর মতে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকায় আরও নাম বাদ যাবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
“২০২৪ এর লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোট ব্যবধান ছিল ২১ লক্ষ। আমাদের (বিজেপির) সঙ্গে ওদের (তৃণমূলের) তফাৎ ২১ লক্ষ। ৫৮ লক্ষ ভোট বাদ দেওয়ার মধ্যে থেকে প্রমাণ হয়েছে বিজেপির সঙ্গে ওদের কোনও তফাৎ এই মুহূর্তে নেই।“
তাঁর ইঙ্গিত, SIR প্রক্রিয়ার ফলে বাদ যাওয়া ভোটের অধিকাংশই তৃণমূলের ভোট ছিল। তৃণমূল ভার্সেস-বিজেপির লড়াইয়ে ভোটের ব্যবধান এখন শূন্যে নেমে এসেছে বলেই দাবি শুভেন্দুর।