মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর-কে দল থেকে সাসপেন্ড করার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল— কেন শুধুমাত্র বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরির সিদ্ধান্তে তাঁকে বহিষ্কার করা হল? অবশেষে এই প্রশ্নের জবাব দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, সাসপেনশনের পিছনে আসল কারণ মসজিদ নির্মাণ নয়, বরং ‘রাজনৈতিক চক্রান্তের ফাঁদ’ এবং ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’।
শুধু মসজিদ তৈরির জন্য সাসপেন্ড নয়: কুণাল ঘোষ
হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কুণাল ঘোষ পরিষ্কারভাবে জানান যে শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য তৃণমূল কাউকে শাস্তি দিতে পারে না।
“বাংলায় কোনও ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিগণ তাঁদের জায়গায় মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা তাঁদের ধর্মের আরাধনার জায়গা করতেই পারেন। তার জন্য তাঁকে বহিষ্কার বা তাঁর প্রতি কোনও শাস্তিমূলক কোনও ব্যবস্থা এগুলো হতে পারে না। এগুলো কখনও তৃণমূল কংগ্রেস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।”
‘ধর্মের মোড়কে রাজনৈতিক অঙ্কে বিষাক্ত মেরুকরণ’
কুণাল ঘোষ এরপরই সাসপেনশনের আসল কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে হুমায়ুন কবীর ‘অন্য রাজনৈতিক দলের চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়ে’ কাজটি করেছেন।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি: হুমায়ুন ‘ধর্মের মোড়কে রাজনৈতিক অঙ্কে সেই ধর্মকেন্দ্রিক কোনও ইভেন্টকে দিয়ে ভোটের রাজনীতির বিষাক্ত মেরুকরণের মায়াজাল তৈরি করতে’ চেয়েছেন।
দলবিরোধী কাজ: তাঁর কর্মকাণ্ড ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি’ তৈরি করেছে এবং তিনি ‘সাংগঠনিকভাবে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলার চেষ্টা’ করেছেন।
কুণাল ঘোষের হুঁশিয়ারি: “সেক্ষেত্রে বিষয়টি আর ধর্মের বলে থাকে না।”
গীতা পাঠের উদাহরণে স্পষ্ট করলেন অবস্থান
তৃণমূল যে সব ধর্মকে সম্মান করে, সেই অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে কুণাল ঘোষ একটি উদাহরণ টেনে আনেন।
“তৃণমূল কংগ্রেস সব ধর্মকে সম্মান করে। কিন্তু, কিছু লোক যখন ধর্মের নামে রাজনৈতিক ইভেন্ট করে, যেমন অমুক কণ্ঠে গীতা পাঠ। তখন আমরা গীতার বিরোধিতা করি না। ওই ইভেন্টের বিরোধিতা করার অবকাশ থাকে। তেমনই কেউ মসজিদ তৈরি করলে করতেই পারেন। কিন্তু, সেটা যদি অন্য রাজনৈতিক দলের চক্রান্ত কিংবা প্ররোচনার ফাঁদে পড়ে একটি রাজনৈতিক ইভেন্টে পরিণত হয় ও তার উদ্দেশ্য অন্য কিছু থাকে, সেক্ষেত্রে সেটা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পর্যবেক্ষণের আওতায় পড়ে যায়।”
কুণাল ঘোষ দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন, কেউ যদি বলেন, তাঁকে মন্দির বা মসজিদ তৈরির জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, তবে সেটা মিথ্যা কথা।