বাগবাজার গৌড়ীয় মিশনে ডিজিটাল লাইব্রেরির শুভ উদ্বোধন, দুর্লভ বৈষ্ণব পাণ্ডুলিপি এবার সারা বিশ্বের পাঠকের জন্য সহজলভ্য

গৌড়ীয় বৈষ্ণব গ্রন্থ, পত্রিকা, পত্রাবলী ও দুষ্প্রাপ্য বৈষ্ণব পাণ্ডুলিপির অন্যতম আকর স্থান কলকাতার বাগবাজার গৌড়ীয় মিশন গ্রন্থাগার। এবার সেই সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের সমস্ত সম্পদ বৈষ্ণব অনুরাগী পাঠক, ভক্ত, ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক সহ সারা বিশ্বের জ্ঞানপিপাসু মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে মিশনে একটি ডিজিটাল লাইব্রেরির শুভ উদ্বোধন হল। এই গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার।

সোমবার গৌড়ীয় মঠের আচার্য্য ভক্তি সুন্দর সন্নাসী মহারাজ এই ডিজিটাল লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন। পাঠকরা gaudiyamissionbooks.com নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ডিজিটাল গ্রন্থাগারের নাগাল পাবেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ট্রাস্টি এবং ডিন ড: সুমন্ত রুদ্র, এশিয়াটিক সোসাইটির এডমিনিস্ট্রেটর কর্নেল অনন্ত সিনহা এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপিকা ড: তিন্নি গোস্বামী সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

ঐতিহ্যকে বাঁচানোর বিপ্লব

গৌড়ীয় মঠের সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্নাসী মহারাজ বলেন, গৌড়ীয় মিশন হলো শ্রীমদ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদের প্রতিষ্ঠিত একটি শুদ্ধ ভক্তির প্রতিষ্ঠান। এখানকার গ্রন্থাগার খুবই সমৃদ্ধ; যেখানে গৌড়ীয় বৈষ্ণব বিষয়ক বহু গ্রন্থ, ভগবত গীতা, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ সহ বহু পাণ্ডুলিপিও রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী পুরনো ঐতিহ্যকে বাঁচানোর বিশেষত পুরনো গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি ডিজিটাইজেশনে এক বিপ্লব শুরু হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মধুসূদন মহারাজের তত্ত্বাবধানে এই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে, যাতে তাঁদের গ্রন্থাগারে থাকা দুষ্প্রাপ্য বই এবার সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তিনি আরও জানান, ভক্তিসিন্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদের ১৫০ বছরের জন্মবার্ষিকীতে এই ডিজিটাল লাইব্রেরির উদ্বোধন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

ভক্তি বেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন ড: সুমন্ত রুদ্র বলেন, গৌড়ীয় মিশনের বই ডিজিটাইজ হওয়ায় একদিকে যেমন গৌড়ীয় গ্রন্থ ছাত্র, গবেষক, শিক্ষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে সহজলভ্য হলো, তেমনি আগামী দিনে গৌড়ীয় বিষয়ক গবেষণার কাজ আরও তরান্বিত হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy