প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার তিন দেশের সফরের অংশ হিসেবে জর্ডানের পর ইথিওপিয়ায় পৌঁছেছেন। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে, প্রধানমন্ত্রী মোদী ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডঃ আবি আহমেদ আলীর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। ভারত ও ইথিওপিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার জন্য এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানাতে আদ্দিস আবাবায় ডিজিটাল ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে।
ইথিওপিয়ার স্বতন্ত্র ইতিহাস: কেন এটি আফ্রিকার প্রাচীনতম স্বাধীন দেশ?
ইথিওপিয়া সম্পর্কে একটি মজার তথ্য হল, এটিই একমাত্র আফ্রিকান দেশ যাকে ইউরোপীয়রা কখনও দাসত্ব করতে পারেনি। এটি আফ্রিকার প্রাচীনতম স্বাধীন দেশ, যার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৩৬ মিলিয়ন।
১. শক্তিশালী নেতৃত্ব (দ্বিতীয় মেনেলিক):
-
ইউরোপীয় শক্তিগুলি যখন অন্যান্য আফ্রিকান জাতিগুলিকে দাসত্বে আবদ্ধ করছিল, তখন ইথিওপিয়া দ্বিতীয় মেনেলিকের (শাসনকাল: ১৮৮৯-১৯১৩) অধীনে ছিল। তিনি সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী ও আধুনিকীকরণ করেছিলেন এবং আধুনিক অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করেছিলেন।
-
আদওয়ার যুদ্ধ (১৮৯৬): ১৮৮৫ সালে ইতালি ইরিত্রিয়া দখল করার পর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। ইতালীয় বাহিনী টাইগ্রে অঞ্চলে আক্রমণ করলে ইথিওপীয় বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। ১৮৯৬ সালে আদওয়ার যুদ্ধে ইতালি পরাজিত হয়। এই জয় ইউরোপীয় শক্তির সামনে ইথিওপিয়ার পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে এবং একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে এর অবস্থানকে দৃঢ় করে।
২. ভৌগোলিক অবস্থান ও কূটনীতি:
-
ইথিওপিয়ার অনেক অঞ্চল দুর্গম এবং পাহাড়ি, যার ফলে বিদেশী সেনাবাহিনীর জন্য প্রবেশ এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন ছিল। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করত।
-
মেনেলিক কূটনীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং ইউরোপীয় শক্তিগুলিকে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিলেন।
মুসোলিনির সংক্ষিপ্ত দখলদারিত্ব:
-
ব্যতিক্রম: ১৯৩০-এর দশকে বেনিতো মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী ইতালি ১৯৩৫-৩৬ সালে ট্যাঙ্ক, বিমান এবং রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে ইথিওপিয়াকে সংক্ষিপ্তভাবে দখল করে।
-
মুক্তি: ১৯৩৬ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ইতালি ইথিওপিয়া দখল করে রাখে। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ইথিওপীয় বাহিনী ব্রিটিশদের সহযোগিতায় ইতালিকে তাড়িয়ে দেয় এবং আবার একটি স্বাধীন জাতিতে পরিণত হয়।
ইথিওপিয়ার বর্তমান গুরুত্ব:
-
আফ্রিকান ইউনিয়নের আয়োজক: ইথিওপিয়া বর্তমানে আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU) এর সদর দপ্তর বা আয়োজক।
-
কৃষি ও কফি: এটি একটি কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষি তার জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ এবং দেশের ৭০ শতাংশ কর্মসংস্থান প্রদান করে। ইথিওপিয়াকে কফির জন্মস্থান বলা হয় এবং এটি কফির বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ।
-
গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধ: আফ্রিকার বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধ, ইথিওপিয়ায় নির্মিত হচ্ছে, যা সম্পন্ন হলে প্রতিবেশী দেশগুলিতে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে সক্ষম হবে।